শিশুর মানসিক বিকাশে যেভাবে প্রযুক্তির প্রভাব পরে

শিশুর মানসিক বিকাশে যেভাবে প্রযুক্তির প্রভাব পরে ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০০:৫২, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

বর্তমান যুগে ইন্টারনেট ছাড়া দৈনন্দিন জীবন প্রায় অচল বললেই চলে। শিক্ষা, পেশাগত কাজ কিংবা বিনোদন—সব ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তি এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

অগণিত তথ্য মুহূর্তের মধ্যে হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়ায় ইন্টারনেট নিঃসন্দেহে আধুনিক বিজ্ঞানের এক অনন্য আশীর্বাদ। তবে সচেতনতার অভাব থাকলে এই আশীর্বাদই ধীরে ধীরে অভিশাপে পরিণত হতে পারে, আর এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা।

আজকের প্রজন্মের শিশুরা খুব অল্প বয়স থেকেই স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও ট্যাবের মতো ডিজিটাল ডিভাইসের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তারা কাটাচ্ছে পর্দার সামনে। পড়াশোনার কাজে ইন্টারনেট যেমন সহায়ক, তেমনি মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিশুরা সহজেই পাঠ্যবইয়ের বাইরে নানা তথ্য জানতে পারে, বিভিন্ন প্রজেক্টের উপকরণ সংগ্রহ করতে পারে এবং সাধারণ জ্ঞান বাড়াতে পারে। বিশ্বের নানা প্রান্তে কী ঘটছে, তা দ্রুত জানার সুযোগ তাদের চিন্তাভাবনাকে বিস্তৃত করে এবং সামাজিক সচেতনতাও তৈরি করে। আবার শহুরে জীবনে খেলার মাঠ বা খোলা জায়গার অভাব থাকায় অনেক শিশুর কাছে ইন্টারনেটই হয়ে উঠেছে বিনোদনের প্রধান উৎস।

কিন্তু সমস্যার শুরু হয় তখনই, যখন এই ব্যবহারের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। খুব সহজে শিশুর হাতে চলে আসা স্মার্টফোন বা ট্যাব তাদের অজান্তেই অনুপযুক্ত ও ক্ষতিকর কনটেন্টের মুখোমুখি করতে পারে।

অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহারে শিশুর কোমল মনে ভুল ধারণা জন্ম নিতে পারে, যা ভবিষ্যতে তার আচরণ, মূল্যবোধ ও মানসিক গঠনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের সমস্যা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং মানসিক অস্থিরতার মতো ঝুঁকিও বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ক্ষতি থেকে শিশুদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অভিভাবকরাই। শিশুকে দিনে কতক্ষণ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নিয়ম থাকা জরুরি। এ

কই সঙ্গে সে কোন ধরনের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করছে, কী ধরনের ভিডিও বা তথ্য দেখছে—এসব বিষয়ে সচেতন নজরদারি প্রয়োজন। প্রয়োজনে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল বা অন্যান্য নিরাপত্তামূলক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এ ছাড়া সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভয় দেখানো বা কড়া নিষেধের পরিবর্তে সহজ ভাষায় ইন্টারনেটের ভালো ও খারাপ দিকগুলো বোঝাতে পারলে শিশুরা নিজেরাই সচেতন হতে শেখে।

প্রযুক্তির বাইরে তাকে বই পড়া, খেলাধুলা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা সৃজনশীল কাজে আগ্রহী করে তোলাও কার্যকর সমাধান হতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, ইন্টারনেট শিশুদের জন্য যেমন জ্ঞান ও শেখার বড় মাধ্যম, তেমনি অসচেতন ব্যবহারে তা বড় ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত নজরদারি ও অভিভাবকদের যত্নশীল ভূমিকার মাধ্যমেই এই প্রযুক্তিকে শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক ও নিরাপদ শক্তিতে পরিণত করা সম্ভব।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement