উত্তর আরব সাগরে ব্যাপক সামরিক মহড়া পরিচালনার মাধ্যমে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতির বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) এই মহড়ার অংশ হিসেবে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ‘এলওয়াই-৮০ (এন)’–এর সফল পরীক্ষা চালানো হয়।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত আকাশপথের লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হেনে সেটিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, নৌবাহিনীর সার্বিক অপারেশনাল প্রস্তুতি ও যুদ্ধ সক্ষমতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে এই মহড়া পরিচালিত হয়। এতে প্রচলিত সমরাস্ত্রের পাশাপাশি আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে।
ভার্টিক্যাল লঞ্চ সিস্টেম (ভিএলএস) থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন প্রতিহত করতে বিশেষভাবে কার্যকর। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফল পরীক্ষার মাধ্যমে আরব সাগরে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
চীনে নির্মিত এলওয়াই-৮০ (এন) ক্ষেপণাস্ত্রটি ৪ থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮ হাজার মিটার উচ্চতায় থাকা যেকোনো উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে। উন্নত রাডার ও লক্ষ্য নির্ধারণ প্রযুক্তির কারণে প্রতিকূল আবহাওয়াতেও ক্ষেপণাস্ত্রটি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে বলে দাবি করেছে আইএসপিআর।
এই মহড়াটি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ। তিনি মহড়ায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তা ও নাবিকদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও সমন্বয়ের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন।
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পাশাপাশি এবারের মহড়ায় সামুদ্রিক ড্রোনসহ বিভিন্ন আধুনিক ও কৌশলগত অস্ত্রের কার্যকারিতাও যাচাই করা হয়েছে। আইএসপিআর জানায়, ব্যবহৃত ড্রোনগুলো উচ্চ গতি, দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং কার্যকর নজরদারির সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। নৌবাহিনী প্রধান বলেন, দেশের সমুদ্রসীমা সুরক্ষা এবং জাতীয় সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় পাকিস্তান নৌবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।
বিশ্লেষকদের মতে, আরব সাগরে পাকিস্তান নৌবাহিনীর এই শক্তি প্রদর্শন শুধু সামরিক সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।































