নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের চলাফেরা ও অর্থ বহনের বিষয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের অবসান ঘটিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নিশ্চিত করেন, নির্বাচনের সময় কোনো নাগরিকের অর্থ বহনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সীমা বা ‘সিলিং’ ধার্য করা হয়নি।
সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “যদি অর্থের উৎস বৈধ এবং তার ব্যবহার যথাযথভাবে প্রমাণ করা যায়, তাহলে ৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহন করলেও কোনো আইনগত সমস্যা হবে না।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা দেন, নাগরিকরা তাদের ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নিয়ম মেনে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন। তবে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে অর্থ ব্যবহার করা হলে কমিশন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই ধরনের ঘটনা সরাসরি ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’র নজরদারির আওতায় আনা হবে।
অপরদিকে, যদি অর্থের উৎস অবৈধ বা কালো টাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়, তবে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
সচিবের এই ব্যাখ্যার দিনেই উত্তরবঙ্গের নীলফামারীতে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে নগদ ৫০ লাখ টাকাসহ আটক করেছে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থানা পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিপুল অর্থের উৎস নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য ব্যবহার খতিয়ে দেখতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের মাঠে কালো টাকার প্রভাব রোধ করা তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। তারা নির্দেশ দিয়েছেন, বৈধ ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষ যেন তাদের বৈধ অর্থ বহন করার সময় কোনো হয়রানির শিকার না হন।
একই সঙ্গে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে অর্থের উৎস যাচাই করা হচ্ছে।
ইসি মনে করে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অর্থের অপব্যবহার রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। ভোটারদের সচেতন থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।





























