ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এগিয়ে: নিউইয়র্ক এডিটোরিয়াল
Published : ২৩:৪৩, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আগামীকাল, ১২ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক ইতিহাসজড়িত এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০০৮ সালের পর এটি হবে প্রথম নির্বাচন যেখানে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ব্যালটে নেই।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শুধু সরকারের পরিবর্তন ঘটায়নি, বরং পুরো রাজনৈতিক মানচিত্রকেই নতুন করে রূপ দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং জাতীয় জরিপ সংস্থা যেমন ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট ও ইনোভিশন কনসাল্টিং-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি আগামী নির্বাচনে কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং অনিশ্চয়তা অনেকাংশে অনুমানের চেয়ে বেশি।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপি জামায়াতকে ছাড়িয়ে এগিয়ে। তবে জরিপ অনুযায়ী ব্যবধান সংস্থাভেদে ভিন্ন: ন্যারেটিভ/আইআইএলডি জরিপে দুই দলের ব্যবধান মাত্র ১.১ শতাংশ, আর ইনোভিশনের সর্বশেষ প্যানেল স্টাডিতে বিএনপি ২১.৮ শতাংশ এগিয়ে। এই ভিন্নতা মূলত ভিন্ন পদ্ধতির কারণে, যেমন নমুনা সংখ্যা, সময়কাল এবং সমীক্ষার পদ্ধতি।
আওয়ামী লীগের বড় ভোটব্যাংক এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছে। মোট ভোটের ৩৫ থেকে ৪৮ শতাংশ ভোট নিয়মিতভাবে আওয়ামী লীগ পেত, কিন্তু বর্তমান নির্বাচনে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় প্রায় চার কোটি ভোটার পুনঃবিন্যাসের মধ্যে। সিআরএফ/বিপিওএস জরিপে দেখা গেছে, এই ভোটারের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে জামায়াতও এই সুযোগ থেকে কিছুটা সুবিধা নিতে পারে, প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার তাদের দিকে যেতে পারেন।
বাংলাদেশের ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (এফপিটিপি) নির্বাচনি পদ্ধতি আসন ভাগের ক্ষেত্রে কার্যকর—দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমর্থনকে বেশি পুরস্কৃত করে। ফলে বিএনপি যদি সামান্য ব্যবধানেও এগিয়ে থাকে, তারা বড় জয় পেতে পারে। অন্যদিকে জামায়াতের ভোট মূলত উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কেন্দ্রীভূত, যা আসনসংখ্যার ক্ষেত্রে সীমিত প্রভাব ফেলে।
নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান—বিদ্রোহী প্রার্থী, তরুণ ভোটারের উপস্থিতি এবং অনিশ্চিত ভোটার। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ৯২ জন মনোনয়নবঞ্চিত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় অন্তত ৪৬টি আসনে ভোট ভাগ হতে পারে।
প্রথমবার ভোট দিতে আসা প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ তরুণ ভোটারের ৩৭.৪ শতাংশ ভোট জামায়াতের দিকে যেতে পারে। এছাড়া, অনিশ্চিত ভোটাররা নির্বাচনের সবচেয়ে বড় দোদুল্যমান উপাদান।
কেন্দ্রীয় প্রাক্কলনে দেখা যাচ্ছে:
বিএনপি ও জোট: ১৮৫ আসন সম্ভাব্য
জামায়াত ও এনসিপি: ৮০ আসন
জাতীয় পার্টি: ১০ আসন
ইসলামী আন্দোলন: ৫ আসন
অন্যান্য/স্বতন্ত্র: ২০ আসন
প্রধান সম্ভাবনা অনুযায়ী, বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে। তবে সম্ভাব্য ভিন্ন পরিস্থিতি যেমন সামান্য ব্যবধানের জয়, ঝুলন্ত সংসদ বা জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটও ঘটতে পারে। নির্বাচনের সঠিক ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে বিদ্রোহী প্রার্থীর ভোট প্রভাব, তরুণ ভোটারের উপস্থিতি এবং দোদুল্যমান ভোটারদের সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশের ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার এই নির্বাচনকে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করবেন। তথ্য-উপাত্ত দেখাচ্ছে, বিএনপির পক্ষে ভোটের ভারি প্রভাব রয়েছে, তবে নির্বাচনে যে কোনো অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বিডি/এএন






























