নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন—রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব নয়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আইনের শাসন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার-এ সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি এ কথা জানান।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার সব খাতে অনাচার ও অনিয়মের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে তিনি আহ্বান জানান—রমজান মাসকে যেন মুনাফা অর্জনের মৌসুম হিসেবে ব্যবহার না করা হয়। কে সরকারকে ভোট দিয়েছে আর কে দেয়নি—এই বিভাজন ভুলে গিয়ে তিনি বলেন, এই সরকারের প্রতি দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অনিয়মে দেশের অর্থনীতি আজ ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে, পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তারেক রহমানের ভাষায়, সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিস্তার সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ বৃদ্ধির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ভাষণে তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বিধিবদ্ধ নিয়ম ও নীতিমালা মেনেই পরিচালিত হবে। কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব, রাজনৈতিক চাপ কিংবা ব্যক্তিগত ক্ষমতার অপব্যবহার সহ্য করা হবে না।
প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন—দলীয় প্রভাব বা জোরজবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।



























