তারাবির নামাজ: আট নাকি বিশ রাকাত?
Published : ২০:১৬, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আবার ফিরে এলো পবিত্র রমজান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশে শুরু হচ্ছে সিয়াম সাধনা।
আজ রাতেই এশার নামাজের পর মসজিদে মসজিদে প্রথম তারাবির নামাজ আদায় করা হবে। শেষ রাতে সেহরি গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে প্রথম রোজার আনুষ্ঠানিকতা।
তারাবির নামাজ ফরজ বা ওয়াজিব নয়—এটি মূলত সুন্নত হিসেবে আদায় করা হয়। তবে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। রাসুল (সা.) তাঁর জীবনের শেষ রমজানে দুই দিন, কোনো বর্ণনায় তিন দিন সাহাবিদের নিয়ে জামাতে তারাবি আদায় করেছিলেন।
পরবর্তী দিন সাহাবিরা মসজিদে অপেক্ষা করলেও তিনি বের হননি। পরে ফজরের সময় তিনি জানান, আশঙ্কা করেছিলেন—তিনি নিয়মিত বের হলে এই নামাজ ফরজ হয়ে যেতে পারে।
বিভিন্ন হাদিসে এসেছে, সেই কয়েক দিনের তারাবি এত দীর্ঘ হতো যে সাহাবিদের সেহরির সময় প্রায় শেষ হয়ে যেত। সে সময় রাকাত সংখ্যা মুখ্য ছিল না; বরং দীর্ঘ ইবাদতই ছিল মূল বিষয়। এজন্য নির্দিষ্ট রাকাতের উল্লেখ পাওয়া যায় না।
বর্তমান সময়ে তারাবির রাকাত সংখ্যা নিয়ে আলোচনা বেশি হলেও সাহাবিদের যুগে এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল না। যদি নির্দিষ্ট সংখ্যা বাধ্যতামূলক হতো, তাহলে রাসুল (সা.) তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতেন। ফলে আজকের মতভেদের সুযোগ থাকত না।
রমজানের রাতের নামাজ সম্পর্কে বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে হাদিসে—যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে নামাজ আদায় করে, আল্লাহ তার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। এখান থেকেই বোঝা যায়, নামাজের ক্ষেত্রে পরিমাণের চেয়ে গুণগত মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তবুও যুগে যুগে আলেমদের মধ্যে দুটি মত দেখা যায়—একদল বলেন তারাবি আট রাকাত, এর বেশি পড়া যাবে না। অন্যদল বলেন বিশ রাকাতই সুন্নত, কারণ হজরত উমর (রা.) তাঁর খিলাফতকালে বিশ রাকাত চালু করেছিলেন এবং সাহাবিরা এতে সম্মতি দিয়েছিলেন।
এই দুই মতের পেছনে রয়েছে দুটি প্রসিদ্ধ হাদিস। একদিকে হজরত উমরের উদ্যোগে বিশ রাকাত চালুর ঘটনা, অন্যদিকে হজরত আয়শা (রা.)-এর বর্ণনা—রাসুল (সা.) সাধারণত এগার রাকাতের বেশি রাতের নামাজ আদায় করতেন না, যা অত্যন্ত দীর্ঘ ও সুন্দর হতো।
আলেমরা এই দুই বর্ণনার মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা করেছেন। তাঁদের ব্যাখ্যা হলো—রাসুল (সা.) আট রাকাত পড়তেন, তবে তা ছিল দীর্ঘ কিরাতসহ। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে হজরত উমর (রা.) কিরাত সংক্ষিপ্ত করে রাকাত সংখ্যা বাড়িয়ে বিশ করেন।
অর্থাৎ কেউ চাইলে দীর্ঘ কিরাতে আট রাকাত পড়তে পারেন, আবার সহজভাবে আদায় করতে চাইলে বিশ রাকাত পড়তে পারেন। এতে শরিয়তের কোনো বিরোধিতা নেই।
সবশেষ কথা হলো—তারাবির মূল উদ্দেশ্য সংখ্যায় নয়, বরং মনোযোগ, খুশু-খুজু ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করলে আশা করা যায়, রাকাত নিয়ে চলমান মতভেদ অনেকটাই কমে আসবে।
বিডি/এএন


































