সম্রাট গ্রেপ্তারের পর আবার আলোচনায় রসু খাঁ

সম্রাট গ্রেপ্তারের পর আবার আলোচনায় রসু খাঁ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:৫৭, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারে টানা সাত মাসে ছয়টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মশিউর রহমান সবুজ গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশের আরেক কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর নাম।

সবুজের ঘটনায় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উঠতেই অতীতের ভয়ংকর অপরাধী রসু খাঁকে ঘিরে পুরোনো সেই লোমহর্ষক ইতিহাস আবার সামনে চলে আসে।

রসু খাঁ, যার প্রকৃত নাম রশিদ খাঁ, ছিল একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। সাধারণ জীবন থেকে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে সে ধীরে ধীরে এক ভয়াবহ সিরিয়াল কিলারে পরিণত হয়। প্রেমের অভিনয় করে গার্মেন্টস কর্মীসহ দরিদ্র ও অসহায় নারীদের ফাঁদে ফেলাই ছিল তার কৌশল। ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ছিল তার নেশা। নিজ মুখেই সে দাবি করেছিল, ১০১ জন নারীকে হত্যার লক্ষ্য নিয়ে সে পথে নেমেছিল। তবে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগে সে ১১ জন নারীকে হত্যা করে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায় চাঁদপুর আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং বাকি অন্তত ৯টি হত্যা মামলার বিচার এখনো চলমান।

দরিদ্র এক কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া রসু খাঁ ছোটবেলা থেকেই অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। প্রথম বিয়ের পর স্ত্রী’র একটি চোখ অন্ধ দেখে সে ক্ষুব্ধ হয় এবং পরে দ্বিতীয় বিয়ে করে। টঙ্গীতে বসবাস শুরু করার পর ধীরে ধীরে সে অপরাধ জগতের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে। একসময় এক প্রেমিকার কাছ থেকে প্রতারণার শিকার হওয়ার পর প্রতিশোধের নেশায় সে ১০১ নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার শপথ নেয় বলে তদন্তে উঠে আসে।

ঢাকা, সাভার ও টঙ্গী এলাকার নিম্নবিত্ত ও অসহায় নারীদেরই মূলত টার্গেট করত রসু খাঁ। ভুক্তভোগীদের হাত-পা বেঁধে নদী কিংবা খালের পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করাই ছিল তার পরিচিত কৌশল। তদন্তে এমন ভয়াবহ তথ্যও উঠে আসে যে, নিজ শ্যালির স্ত্রীকেও ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে তার নাম জড়িয়েছে।

২০০৯ সালের ৭ জুলাই তিন সন্তানের জননী পারভীন আক্তারকে হত্যার ঘটনাটিই ছিল তার সর্বশেষ অপরাধ। ওই ঘটনার তদন্তে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। বর্তমানে তিনি কারাগারেই আছেন এবং কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্যান্য হত্যা মামলাগুলোর বিচার এখনও চলমান। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য নির্ধারিত পৃথক সেলেই তাকে রাখা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কারাবন্দি অবস্থায় এখন পর্যন্ত তার কোনো স্বজন তার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি ভবন ভাঙার কারণে রসু খাঁকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন কারাগার নির্মাণ সম্পন্ন হলে তাকে পুনরায় কুমিল্লা কারাগারে নেওয়া হতে পারে। সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement