ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি কোনো ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কঠোর ও ভয়াবহ পরিণতি হবে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আবুলফজল শেখারচি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে কোনো হামলার চেষ্টা করা হলে তার জবাব হবে এমন ভয়ংকর, যা শুধু ইরান নয়, গোটা বিশ্বকে অস্থির করে তুলতে পারে। তাঁর ভাষায়, খামেনির দিকে বাড়ানো হাত আর ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে না।
এ বিষয়ে আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার ওপর যেকোনো আঘাতকে কেবল একটি ব্যক্তির ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে না; বরং এটিকে পুরো ইসলামি বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হিসেবে গণ্য করা হবে।
তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইসলামি আলেমদের পক্ষ থেকে জিহাদের ফতোয়া জারি হতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে ইসলামের পক্ষে অবস্থান নেওয়া শক্তিগুলো এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
এই উত্তেজনার পেছনে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও বড় ভূমিকা রাখছে। দেশটিতে চলমান বিক্ষোভ ও অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
এর জবাবে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সময় এসে গেছে। এই বক্তব্যকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সেনাবাহিনীর বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, সর্বোচ্চ নেতার ওপর যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মানেই তা পুরো ইরানি জাতির বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ঘোষণার সমান।
এদিকে, ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ একটি বিশেষ জরুরি অধিবেশন ডেকেছে।
ব্রিটেন, জার্মানি, আইসল্যান্ড, মলদোভা ও নর্থ মেসিডোনিয়ার অনুরোধে এই অধিবেশন আহ্বান করা হয়। পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই পাঁচ দেশ বিশ্বাসযোগ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে অভিযোগ করেছে যে, ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও একের পর এক নিষেধাজ্ঞার পরও ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ স্পষ্ট করে বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ মস্কো দেখছে না। তিনি আরও জানান, এই ইস্যুতে রাশিয়া ইরানের পাশেই থাকবে।
































