জন্মদিন উপলক্ষে মানুষের ভালোবাসায় কৃতজ্ঞ মির্জা ফখরুল

জন্মদিন উপলক্ষে মানুষের ভালোবাসায় কৃতজ্ঞ মির্জা ফখরুল ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:৩৪, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

নিজের জন্মদিন উপলক্ষে প্রাপ্ত অসংখ্য শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, জন্মদিনে মানুষের আন্তরিক ভালোবাসা ও শুভকামনায় তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ ও কৃতজ্ঞ।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অনুভূতির কথা জানান।

সেখানে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নানা অধ্যায় তুলে ধরে তিনি লেখেন, রাজনীতিতে পথচলা শুরু করার সময় তার চোখে ছিল সমাজ বদলানোর স্বপ্ন।

প্রায় ৬০ বছর আগের সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি মানুষের সেবায় কাজ করেছেন, ছাত্র পড়িয়েছেন, সরকারি চাকরিও করেছেন। পরে ১৯৮৮ সালে তিনি আবার সক্রিয়ভাবে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন।

মির্জা ফখরুল তার লেখায় উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারের শাসনামলে ঠাকুরগাঁওয়ে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছিল, তার সুফল আজও ওই এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

তিনি বলেন, সেসব উন্নয়ন কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমেই ঠাকুরগাঁও বদলে গেছে। কৃষি, শিক্ষা, অবকাঠামো এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে তখন পরিকল্পিত অগ্রগতি হয়েছিল।

তিনি আরও লেখেন, ২০০৫ সালের মার্চ মাসে বরেন্দ্র মাল্টিপারপাস ভূগর্ভস্থ সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৩৩৭টি টিউবওয়েলকে আধুনিক ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হয়।

এর ফলে পানির অপচয় কমে আসে, কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ৫০ একর নতুন জমি কৃষিকাজের আওতায় আসে। এই প্রকল্প ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বড় ভূমিকা রাখে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি শুধু কৃষি উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। গোবিন্দনগরে ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ভবনের শিলান্যাসের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠান আজ হাজারো তরুণের কর্মসংস্থানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬—এই দুই মেয়াদে বিএনপি সরকার ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামকে গ্রামের সঙ্গে এবং মানুষকে মানুষের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

নতুন গ্রামীণ সড়ক ও সেতু নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসে। গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের বিস্তারে কৃষি, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গতি সঞ্চার হয়। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজ ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষার আলো পৌঁছে যায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপি সরকারের সময় ঠাকুরগাঁওয়ের সব বেসরকারি স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষক সমাজের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ ফিরে আসে।

একই সময়ে ১ হাজার ২৬০টি গভীর নলকূপ চালু হওয়ায় সেচ ব্যবস্থায় এক ধরনের বিপ্লব ঘটে, যা কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বাড়াতে সহায়তা করে।

তিনি লেখেন, এসব উন্নয়নের পেছনে সঠিক নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইএসডিও-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন এবং জাতীয় পর্যায়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ সম্প্রসারণ ও রপ্তানিমুখী কৃষিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেন। কৃষক সমবায় গঠন এবং আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষমতায়ন ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য।

নিজের বর্তমান জীবন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, তার বয়স এখন ৭৮ বছর। গত ১৭ বছর কেটেছে গণতন্ত্রের সংগ্রামে। এ সময়ে তাকে ১১ বার কারাবরণ করতে হয়েছে।

কী অর্জন করেছেন আর কী করতে পেরেছেন, তা আল্লাহ ও জনগণই ভালো জানেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে নীতির প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি বলেও দৃঢ়ভাবে বলেন। দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সর্বস্তরের মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা তাকে আরও বেশি ঋণী করেছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি তার পরিবারের কথাও স্মরণ করেন। বলেন, তার স্ত্রী চাকরি করেছেন এবং সন্তানদের বড় করেছেন। তার মেয়েরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে, বড় মেয়ে বৃত্তি নিয়ে দেশের বাইরে পড়েছে এবং তারা সবাই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। পরিবারকে পাশে পাওয়ার জন্য তিনি তাদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান।

শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি আজও এই দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখেন এবং কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের তরুণদের তিনি নিজের সন্তানের মতো মনে করেন এবং প্রত্যাশা করেন, এই দেশের সব মানুষ যেন শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে দুধে-ভাতে থাকতে পারে।

 

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement