মানুষের স্বাধীনতা ও কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু
Published : ১৭:৫০, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের অর্জিত স্বাধীনতা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে কথা বলার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে একটি চিহ্নিত মহল নতুন করে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা যারা করছে, তাদের আসল চেহারা আজ দেশের মানুষ সঠিকভাবে দেখতে পাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণই এই ষড়যন্ত্রকারীদের নাম দিয়েছে ‘গুপ্ত গোষ্ঠী’। এই তথাকথিত গুপ্ত চক্রটি কেবল রাজনৈতিকভাবে নয়, সামাজিকভাবেও বিভাজন তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এই গোষ্ঠীর প্রধান দেশের খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মা-বোনদের সম্পর্কে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও অপমানজনক মন্তব্য করেছেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যাদের অন্তরে সাধারণ মানুষের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ নেই, যারা দেশের নারী শক্তিকে অপমান করতে দ্বিধা করে না, তাদের কাছ থেকে জনকল্যাণমূলক কিছু আশা করা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি আরও বলেন, এই গোষ্ঠীর পূর্বসূরিরাই ১৯৭১ সালে দেশের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছে।
নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভোটারদের, বিশেষ করে মা-বোনদের, ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে অনৈতিকভাবে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা নির্বাচনের আগেই এমন অস্বচ্ছ ও বিতর্কিত পথে পা বাড়িয়েছে, তারা ক্ষমতায় গিয়ে কীভাবে দেশের সুশাসন নিশ্চিত করবে।
তারেক রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে জনগণের রায় পরিবর্তনের দিন শেষ হয়ে গেছে। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন, যাতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি জনগণের ভোটাধিকার হরণ করতে না পারে।
ফরিদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি যদি জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করতে পারে, তবে স্থানীয় মানুষের প্রশাসনিক সুবিধা ও উন্নয়নের স্বার্থে ফরিদপুরকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক বিভাগে রূপান্তর করা হবে। তাঁর মতে, জনগণের অংশগ্রহণমূলক সরকারই সাধারণ মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।
বক্তৃতার শেষে তিনি ফরিদপুরবাসীকে আহ্বান জানান, ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে অংশ নিন।
বিডি/এএন



























