এপস্টেইনের গোপন পরিকল্পনায় আইনজীবীরও আতঙ্ক

এপস্টেইনের গোপন পরিকল্পনায় আইনজীবীরও আতঙ্ক ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২১:০১, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের গোপন নথিপত্র প্রকাশ পাওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতিসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত প্রায় ৩০ লাখ নথিতে উঠে এসেছে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী রাজনীতিক, ধনকুবের ও ক্ষমতাধর ব্যক্তির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের চিত্র, পাশাপাশি তার সংঘটিত ভয়াবহ যৌন অপরাধের বিস্তৃত বিবরণ।

এই বিপুল নথির ভেতরেই বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত একটি দলিল। নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জেফরি এপস্টেইন জিন প্রকৌশল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মানুষের একটি তথাকথিত উন্নত ‘সুপার-রেস’ তৈরির উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা করেছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত এপস্টেইনের ‘জোরো র‍্যাঞ্চ’-কেই তিনি এই ভয়ংকর পরিকল্পনার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল নিজের বীর্য বা ডিএনএ ব্যবহার করে একসঙ্গে অন্তত ২০ জন নারীকে গর্ভবতী করা এবং সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানবজাতির মধ্যে নিজের জিন ছড়িয়ে দেওয়া।

উল্লেখ্য, এই একই র‍্যাঞ্চে অতীতে নাবালিকাসহ বহু নারী এপস্টেইনের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ফলে তার কথিত এই ‘বৈজ্ঞানিক প্রকল্প’ সামনে আসার পর নতুন করে উদ্বেগ, আতঙ্ক ও জনক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এপস্টেইনের এই চিন্তাধারা আংশিকভাবে ‘ট্রান্সহিউম্যানিজম’-এর ধারণার সঙ্গে মিল থাকলেও অনেকেই এটিকে নাৎসি আমলের কুখ্যাত ‘ইউজেনিক্স’ বা সুপ্রজননবিদ্যার আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেখছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি একাধিক খ্যাতনামা বিজ্ঞানী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।

নথিতে আরও উল্লেখ আছে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনগত গতিবিদ্যা কর্মসূচিতে এপস্টেইন প্রায় ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ২০১১ সালে তিনি ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড ট্রান্সহিউম্যানিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এ ২০ হাজার ডলার দান করেন।

এপস্টেইনের এই ভয়াবহ পরিকল্পনার কথা শুনে তার নিজের আইনজীবী অ্যালান ডারশোভিটসও আতঙ্কিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ১৯৩০-এর দশকে নাৎসি জার্মানিতে ইউজেনিক্স ব্যবহারের ভয়ংকর ইতিহাসের পরও এ ধরনের জেনেটিক ম্যানিপুলেশনের প্রতি এপস্টেইনের আগ্রহ ছিল অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও বিপজ্জনক।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement