বাজার মূল্য ভালো পাওয়ায় দিনাজপুরে রঙ্গিন ফুলকপির চাষ বাড়ছে
Published : ২০:০২, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রঙ্গিন ফুলকপি চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষক। সাদা বা বেগুনি নয়, বরং হালকা সবুজ ও রঙিন ফুলকপি চাষ করে লাভের মুখ দেখছে দিনাজপুরের কৃষকরা।
স্বল্প সময়ে ভালো ফলন, বাজারে চাহিদা ও তুলনামূলক বেশি দাম পাওয়ায় দিন দিন রঙিন ফুলকপির চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। জেলার পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের মেরিয়া গ্রাম এখন রঙিন ফুলকপির জন্য আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
উপজেল কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পার্বতীপুর উপজেলায় প্রায় চার হেক্টর জমিতে রঙিন ফুলকপির চাষ হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরের প্রথম দিকে এসব জমিতে চারা রোপণ করা হয়।
বর্তমানে প্রতিটি ফুলকপির ওজন গড়ে সাড়ে ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত হচ্ছে। প্রতি একর জমিতে চাষ করতে খরচ পড়েছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তবে বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকরা লাভের আশা করছে। ফুলকপি চাষি আবুল কাশেম বলেন, জমিতে প্রতি কেজি রঙিন ফুলকপি ২৫ থেকে ২৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাইকাররা সেই ফুলকপি বাজারে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি করছে। অন্য জাতের ফুলকপির তুলনায় রঙিন ফুলকপির দাম বেশি হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়ই লাভবান হচ্ছে। উপজেলার মেরিয়া গ্রামের কৃষক মোজাহার হোসেন বলেন, গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে ২০শতক জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করেছিলেন।
ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় চলতি মৌসুমে ২একর জমিতে এই জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ টাকা। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ৫ থেকে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে স¤পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করেছি। ফেরোমন ফাঁদ ও আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে পোকামাকড় দমন করা হয়।
শুরুতে কিছুটা ঝুঁকি ছিল, কিন্তু ফলন দেখে এখন খুবই আশাবাদী। একই গ্রামের এন্তাজুল ইসলাম বলেন, রঙিন ফুলকপির চারা উৎপাদন ও সরবরাহ করে লাভবান হয়েছি। কৃষি বিভাগের মাধ্যমে বীজ সংগ্রহ করে নিজের জমিতে চারা উৎপাদন করা হয়। ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যেই এসব চারা চাষিদের কাছে সরবরাহ করেছি।
চারা বিক্রি করে লাভ হয়েছে। পাশাপাশি নিজের জমিতেও চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, বাজারে চাহিদাও বেশ। ভবিষ্যতে আরও চাষ বাড়াব। পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজীব হুসাইন বলেন, পার্বতীপুরের উর্বর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি বছর রঙিন ফুলকপির ফলন ও বাজারমূল্য ভালো। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সার, সেচ ও পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। ফলে রঙিন ফুলকপির চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে।
দিনাজপুর কৃষি প্রকল্প কর্মকর্তা আবু রেজা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষি উন্নয়ন ও টেকসই প্রকল্পের আওতায় রঙিন ফুলকপি চাষকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে চাষিদের বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দিনাজপুরে ১৩টি উপজেলায় রঙিন ফুলকপির চাষ বাড়ছে। বাজারে চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় আগামী মৌসুমে চাষ আরও বাড়বে।
বিডি/এএন


































