তারেক রহমানকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছে দ্য ডিপ্লোম্যাট

তারেক রহমানকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছে দ্য ডিপ্লোম্যাট ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২১:৪৯, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদ সাময়িকী ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ বাংলাদেশের আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হতে পারেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

‘অ্যান ইন্টারভিউ উইথ তারেক রহমান— লাইকলি বাংলাদেশ’স নেক্সট প্রাইম মিনিস্টার’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে নির্বাচনের আগে পরিচালিত একাধিক জনমত জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়। এসব জরিপে দেখা যাচ্ছে, তারেক রহমানই বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী পদে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী।

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে ব্লুমবার্গ, টাইম ও দ্য ইকোনমিস্টসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও তারেক রহমানকে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করেছে। এবার দ্য ডিপ্লোম্যাট সরাসরি তাকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে পরিচালিত একটি জনমত জরিপে বিএনপির প্রতি জনসমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ, যেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন মাত্র ১৯ শতাংশ। পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসালটিংয়ের আরেক জরিপে উঠে আসে, ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ মনে করছেন তারেক রহমানই হবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছেন ২২ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা।

দ্য ডিপ্লোম্যাট আরও বলেছে, এবারের নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে ‘জেন জেড’ নামে পরিচিত তরুণ ভোটাররা। ভোটার তালিকার একটি বড় অংশই এই প্রজন্মের, আর তাদের ভোটেই নির্ধারিত হবে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জেন জেডের উল্লেখযোগ্য অংশ বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে— বিশেষ করে যেসব কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান।

প্রতিবেদনের জন্য সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সিরাজগঞ্জে একটি নির্বাচনী সমাবেশ শেষে টাঙ্গাইলের আরেকটি সমাবেশে যাওয়ার পথে বাসে থাকা অবস্থায়। সেখানে তারেক রহমান অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন।

জেন জেড প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এই প্রজন্মের চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, আইটি খাত ও শ্রমবাজারকে তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন— যা তরুণদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, আজকের সভাগুলোতে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, উপস্থিত অধিকাংশ মানুষই জেন জেড প্রজন্মের।

তিনি আরও বলেন, ‘দ্য প্ল্যান’ নামের একটি কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন, যেখানে তরুণরা তাদের ভাবনা ও উদ্বেগ তুলে ধরেন।

দ্য ডিপ্লোম্যাট প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, শেখ হাসিনার সরকারের সময় ভারতমুখী পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সমালোচনা থাকলেও তারেক রহমান জানিয়েছেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে অর্থনীতি নির্ভর কূটনীতি গড়ে তোলা হবে এবং পারস্পরিক সম্মান ও লাভের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালিত হবে।

তিনি আশ্বাস দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠা করা হবে।

জেন জেডের একটি অংশ জাতীয় নাগরিক পার্টির দিকে ঝুঁকছে— এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, তিনি এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না। জনগণই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে কোন পরিকল্পনা তাদের জন্য ভালো।

বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। তিনি জানান, প্রায় ৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি মূলত পোশাকশিল্প ও প্রবাসী আয়ের ওপর দাঁড়িয়ে— যা বিএনপি সরকারের সময় শুরু হয়েছিল। ভবিষ্যতে আইটি, সেমিকন্ডাক্টর, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, জুতা শিল্প ও এসএমই খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, কৃষি ও সৃজনশীল অর্থনীতিতেও বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধে তিনি একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক আর্থিক ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন এবং বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি এমন পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে এবং অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সবশেষে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, জনগণের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষাই হবে তাদের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement