“যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে”—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গানটি হয়তো উসমান খাজার জানা নেই।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের মুহূর্তে অনুভূতির গভীরতা তিনি ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছেন। সিডনিতে পঞ্চম অ্যাশেজ টেস্টের মাধ্যমে ১৫ বছরের দীর্ঘ ও উজ্জ্বল ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
২০১১ সালে এসসিজিতে অ্যাশেজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল খাজার। সেই অভিষেকের ম্যাচে যেমন স্টিভ স্মিথ ছিলেন, আজ বিদায় বেলায়ও খাজার সঙ্গে স্মিথকে সতীর্থ হিসেবে দেখা গেছে। পঞ্চম দিনের খেলা শেষে অ্যাশেজের শেষ টেস্টেই সমাপ্ত হলো খাজার আন্তর্জাতিক যাত্রা।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্মিথ বলেন, “উসমানের ক্যারিয়ার অসাধারণ। অভিষেকের সময়ও খেলেছি। সে একজন অসাধারণ মানুষ ও ক্রিকেটার। ড্রেসিংরুমে তার উপস্থিতি আমরা অবশ্যই মিস করব।”
সিডনি টেস্টে পঞ্চম দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে নামার সময় খাজাকে গার্ড অব অনার দেয় ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। মাঠে নামার আগে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন খাজা, যেন বিদায়ের অনুভূতি সামলাচ্ছেন। শেষ ইনিংসে ১৭ ও ৬ রান করে আউট হন তিনি।
সিডনিতে সংবাদ সম্মেলনেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন খাজা। ফক্স স্পোর্টসকে তিনি বলেন, “এখানে আমার অনেক কিছু জড়িয়ে আছে। আমার ব্যাট থেকে জয়লাভের রান আসার প্রত্যাশা ছিল। পুরো টেস্টে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে গিয়েছিল, তাই মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়নি। আমার ক্যারিয়ারে আমি যা পেয়েছি, তার জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ।”
২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত খাজা ৮৭ টেস্ট, ৪০ ওয়ানডে এবং ৯ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। মোট ১৩৭ ম্যাচে ২০৭ ইনিংসে ৪২.০১ গড়ে ৮,০২৪ রান করেছেন। ১৮টি সেঞ্চুরি ও ৪১টি ফিফটির মধ্যে ১৬ সেঞ্চুরি ও ২৮ ফিফটি এসেছে টেস্টে, ৬,২০৬ রান সংগ্রহের মাধ্যমে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে যথাক্রমে ১,৫৫৪ ও ২৪১ রান করেছেন।
অ্যাশেজে এই সিজনে তিনি পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতে খেলেছেন। চোটের কারণে ব্রিসবেনের গোলাপি বলের টেস্টে খেলতে পারেননি। সাধারণত টপ অর্ডারে ব্যাটিং করা খাজার বিদায়ী ম্যাচেও মিডল অর্ডারে নামানো হয়।
ফ্যানদের আশা অনুযায়ী ওপেনিংয়ে নামতে পারেননি। অ্যাশেজ শেষ হওয়ার পরেও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক খাজাকে অবসরের পরামর্শ দিয়েছিলেন। পঞ্চম অ্যাশেজ শেষে চার ম্যাচে ৭ ইনিংসে ১৭৬ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে একটি ফিফটি ছিল।



































