বিশ্বকাপ শুরুর আগে পাকিস্তান-আইসিসি নাটকের উত্তেজনা চরমে

বিশ্বকাপ শুরুর আগে পাকিস্তান-আইসিসি নাটকের উত্তেজনা চরমে ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:২৮, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছেই। বিশেষ করে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পাকিস্তানের গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ অন্তত আটবার পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিকে ফোন করেছেন, কিন্তু নাকভি একটিও কলের জবাব দেননি। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে পাকিস্তানের কঠোর অবস্থানের কাছে আইসিসি শেষ পর্যন্ত কি নতি স্বীকার করবে?

ফোনকলের ঘটনায় ছাড়াও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের মিডিয়া। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠকের পর পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশ ইস্যুতে পাকিস্তানের চূড়ান্ত অবস্থান ৩০ জানুয়ারি অথবা ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জানানো হবে।

তবে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিএনএন দাবি করেছে, শুক্রবারই পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারে এবং সেই ঘোষণা আসবে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে। ফলে রাজনৈতিক পর্যায়েও বিষয়টির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অপরদিকে, পাকিস্তান কী সিদ্ধান্ত নেবে তা এখনও অনিশ্চিত থাকলেও আলোচনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি দেখাতে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন যদি এমন সফর হয়, তাহলে তা শুধুমাত্র ক্রিকেটের দিক থেকে নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তাবাহক হিসেবেও বড় প্রভাব ফেলবে, বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ না করার ঝুঁকি আইসিসির ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে। যদিও বাংলাদেশকে বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে, পাকিস্তানের বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো দলকে প্রস্তুত করার সময় বা বাস্তব সুযোগ নেই।

তাই শেষ মুহূর্তে পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে অংশ না নেয়, তবে পুরো টুর্নামেন্টের আয়োজনকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হবে। এর ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এই দুই দলের অনুপস্থিতি আইসিসির রাজস্ব, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং দর্শক আগ্রহ সবকিছুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়বে বিশ্বকাপের গ্রহণযোগ্যতা এবং আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও।

যদিও পাকিস্তানের সামনে আরও কয়েকটি বিকল্প পথও রয়েছে। পাকিস্তান শুধু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন করতে পারে, বাংলাদেশকে উৎসর্গ করে নিজেদের সম্ভাব্য জয়গুলো প্রদর্শন করতে পারে, অথবা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামতে পারে। তবে কোন পথ অবলম্বন করবে পাকিস্তান, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সব মিলিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন পাকিস্তানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে কেন্দ্রীভূত।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement