লিগ্যাল এইডে সমঝোতা, নোটিশ ছাড়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবে না ঠাকুরগাঁও নেসকো

লিগ্যাল এইডে সমঝোতা, নোটিশ ছাড়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবে না ঠাকুরগাঁও নেসকো ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

Published : ২০:৪০, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

বিনা নোটিশে ও আইন বহির্ভূতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো অনিয়ম আর করা হবে না বলে লিখিত অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আপোষে শেষ হলো নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো), বিক্রয়-বিতরণ বিভাগের ও এক বিদ্যুৎ গ্রাহকের দীর্ঘদিনের বিরোধ।

 বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অনুষ্ঠিত শুনানিতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে আপোষনামা স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিষয়টির আইনি নিষ্পত্তি করা হয়।

ঠাকুরগাঁও চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ মজনু মিয়ার উপস্থিতিতে নেসকো কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে মেনে নেয় যে, বিদ্যুৎ আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যায় না। একই সঙ্গে অভিযোগকারী গ্রাহকের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের হয়রানি, অসদাচরণ কিংবা আইন বহির্ভূত পদক্ষেপ নেওয়া হবে না এ মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করে আপোষনামায় স্বাক্ষর করা হয়।

শুনানিতে নেসকোর ঠাকুরগাঁও বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত না থেকে তার প্রতিনিধি হিসেবে উচ্চমান সহকারী মনাইউন ইসলাম অংশ নেন। শুনানির এক পর্যায়ে নেসকো পক্ষ স্বীকার করে যে, বিনা নোটিশে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগটি আইন সঙ্গত নয় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড গ্রাহকের অধিকার পরিপন্থী। লিগ্যাল এইড কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সম্পাদিত এই আপোষের মাধ্যমে অভিযোগকারী গ্রাহক স্থায়ীভাবে হয়রানি থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে অফিস সূত্রে জানানো হয়।

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) মজনু মিয়া বলেন, লিগ্যাল এইডে দায়ের করা অভিযোগটি আমলে নেওয়ার মতো ছিল। কোনো গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিনা নোটিশে বিচ্ছিন্ন করা আইন সিদ্ধ নয়। শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী নেসকো কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে অভিযোগকারী গ্রাহকের ক্ষেত্রে নোটিশ ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবে না এই মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করেছে। আপোষনামার মাধ্যমে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, লিগ্যাল এইডের উদ্দেশ্য শাস্তি নয় বরং সাধারণ মানুষ যেন কম সময় ও কম খরচে ন্যায় বিচার পায়, সেটি নিশ্চিত করা। এই মামলাটি প্রমাণ করে, আইনের আশ্রয় নিলে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও সাধারণ মানুষ তার অধিকার আদায় করতে পারে। এতে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

এদিকে, নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলামকে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঘটনার সূত্রপাত, ঠাকুরগাঁও পৌরসভার হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ জামানের বিদ্যুৎ সংযোগকে কেন্দ্র করে। তিনি অভিযোগ করেন, নেসকো থেকে সব নিয়ম মেনে বৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই কোনো ধরনের কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে তিনি ও তার পরিবার গভীর ভোগান্তিতে পড়েন।

সংযোগ বিচ্ছিন্নের কারণ জানতে নেসকো অফিসে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাননি। বরং অভিযোগ অনুযায়ী, তার সঙ্গে অসদাচরণ করা হয় এবং মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়। সংযোগ পুনর্বহালের আশায় একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান না পেয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। সংবাদ প্রকাশ ও লিগ্যাল এইডে অভিযোগ দায়েরের পরপরই নেসকো কর্তৃপক্ষ অভিযোগকারীর বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করে।

ভুক্তভোগী ফিরোজ জামান বলেন, আমি একজন সাধারণ মানুষ। বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সহজ নয়। বিভিন্ন মিডিয়ায়  সংবাদ প্রকাশ আর লিগ্যাল এইডের আইনি সহায়তা না পেলে হয়তো ন্যায্য অধিকার আদায় সম্ভব হতো না।

তিনি আরও বলেন, আপোষের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান হওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আর হয়রানির শিকার হবেন না বলে আশ্বস্ত হয়েছেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement