সাঘাটায় অবাধে চলছে নদী থেকে বালু উত্তোলন

সাঘাটায় অবাধে চলছে নদী থেকে বালু উত্তোলন ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২২:৩৫, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলার ৮ থেকে ১০টি স্থানে ইঞ্জিনচালিত শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যে নদীর তলদেশ কেটে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী চক্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অদৃশ্য এক মাসিক চুক্তির বিনিময়ে দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ ব্যবসা। উপজেলার করতোয়া, বাঙালি ও আলাই নদীর মসজিদের ঘাট, ত্রিমোহনী, কচুয়া ও হিন্দুপাড়া এলাকায় ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলনের মহাউৎসব চলছে।

উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ট্রাক্টরযোগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যার ফলে গ্রামীণ এলাকার কাঁচা-পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কোনো দৃশ্যমান অভিযান দেখা যায়নি। ফলে নদীর তলদেশ বালু উত্তোলন যেন লাইসেন্সপ্রাপ্ত কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।

শরিফ মিয়া নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, ড্রেজার ব্যবহারের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নদী ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে, ফসলি জমি, বসতভিটা ও গ্রামীণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। বালুবাহী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে ধুলাবালি ও জনভোগান্তি বেড়েছে।

নদী পাড়ের আব্দুল কুদ্দুস নামে এক ব্যক্তি বলেন, সরকারিভাবে নদী খননের পর মনে হয়েছিল ঘরবাড়ি নিরাপদ। তবে এখন অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গভীর গর্ত জীবনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। উপজেলার কচুয়া এলাকার মোহাম্মদ আলী বলেন, দিনরাত ড্রেজারের শব্দ ও ট্রাক চলাচলের কারণে জীবনযাপন কঠিন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

দ্রুত অবৈধ ড্রেজার সরানো, বালু উত্তোলন বন্ধ করা ও বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিতে হবে। সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর বলেন, যারা আইন অমান্য করে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। অভিযান অব্যাহত থাকবে ও দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement