ফেনীর ছাতকের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ আল মাঈন নাশিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান এবং অনাদায় আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আশরাফ হোসেন তুষার (২২), মোবারক হোসেন ওয়াসিম (২২) এবং ওমর ফারুক রিফাত (২২)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ এন এম মোর্শেদ খান রায় ঘোষণা করেন।
এদিন সকাল ১১টার দিকে তিন আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এজলাসে উপস্থিত হলে তারা সাংবাদিকদের ওপর ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেন। রায় ঘোষণার পর আদালত তাদের কারাগারে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কে কোচিং ক্লাস শেষ করে নাশিত স্থানীয় বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজে যান। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিচিত আসামি তুষার ও সহযোগীরা নাশিতকে অপহরণ করে দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি স্থানীয় স্থানে নিয়ে যান। সেখানে জুসের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করা হয়। পরে তারা নাশিতের ছবি তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। শেষ পর্যন্ত তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং লাশ রেললাইনের পাশে ফেলে দেয়। যাতে লাশ পানিতে ভেসে না ওঠে, তার স্কুল ব্যাগে পাথর ভরাও হয়।
নাশিতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ ৯ ডিসেম্বর ফেনী মডেল থানায় নিখোঁজ মামলা করেন। পরদিন আসামিরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মুক্তিপণ দাবি করে। তদন্তের মাধ্যমে প্রধান অভিযুক্ত তুষারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাশিতের লাশ উদ্ধার করা হয়।
আসামিদের পেছনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটও আলোচ্য—তুষার ফেনী পৌর ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, অন্যজন মোবারক হোসেন সিএনজিচ চালক এবং তৃতীয় আসামি ওমর ফারুক লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা।
মামলায় ২২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতে ১৩ ডিসেম্বর তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নথিভুক্ত হয়। ২৫ জানুয়ারি যুক্তিতর্কের পর বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়।
নাশিতের বাবা রায়ের পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি করেছেন। মামলার পিপি মো. শাহাব উদ্দিন আহমদ জানান, রায় আইনের জন্য দৃষ্টান্তমূলক হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর করা হবে।
































