বিএনপি ক্ষমতায় এলে পরিকল্পনার রূপরেখা দেশবাসী জানবে

বিএনপি ক্ষমতায় এলে পরিকল্পনার রূপরেখা দেশবাসী জানবে ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২৩:৩১, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন এবং ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা কীভাবে আরও কার্যকর করা যায় সে বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে বাকৃবি শাখা ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শতাধিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’।

এই পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচকরা প্রশ্ন তোলে এবং বলে—এসব উদ্যোগ বাজেটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশে ইতোমধ্যে ১৩০টিরও বেশি সামাজিক কর্মসূচি চালু রয়েছে।

গত এক বছর ধরে এসব কর্মসূচি বিশ্লেষণ করেই তারেক রহমান একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করেছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে বলে তিনি জানান।

জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে রাকিব বলেন, একটি ইসলামী দল গ্রামপর্যায়ে ধর্মকে এমনভাবে ব্যবহার করছে যেন ৫ আগস্টের আগের ইসলাম ভুল ছিল। এখন নতুন করে এসে তারা ইসলাম ও তথাকথিত ইসলামী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলছে এবং দাবি করছে, বিদেশি শক্তিও নাকি তাদের ক্ষমতায় দেখতে চায়।

ইসলামী ছাত্রশিবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা নিজেদের গণতান্ত্রিক সংগঠন হিসেবে দাবি করলেও বাস্তবে সেটির প্রতিফলন দেখা যায় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, শিবিরে একই ব্যক্তি বারবার শীর্ষ পদে থাকে—সেক্রেটারিই শেষ পর্যন্ত সভাপতি হয়। এমন অবস্থায় তাদের গণতন্ত্রের দাবি প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত বা ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করতে হলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হয় বলে তারা নিজেরাই প্রচার করে। তার ভাষায়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার পাশাপাশি গালিগালাজের ‘প্রশিক্ষণ’ নিতে হয়—এমন মন্তব্য করে তিনি এসব সংগঠনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করেন।

শেরপুরের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের বিষয়ে রাকিব বলেন, নিহত জামায়াত নেতার প্রতি তিনি সমবেদনা জানান। তবে তার দাবি, এটি ছিল দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং প্রথম হামলার সূচনা জামায়াতের পক্ষ থেকেই হয়েছে। পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও জামায়াতের খামখেয়ালিপনার কারণেই এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব মো. শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ছাদেকা হক, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশিদ, ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তুষারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement