৩৪ বছর বয়সে মারা গেলেন অস্ট্রেলীয় মডেল সাহারা রে, রেখে গেলেন কয়েক মাসের মেয়ে
Published : ১১:৪৬, ২০ অক্টোবর ২০২৬
মাত্র কয়েক মাস বয়সী কন্যাসন্তান স্নোকে রেখে ৩৪ বছর বয়সে মারা গেছেন অস্ট্রেলীয় মডেল, ফ্যাশন ডিজাইনার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ সাহারা রে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন ভক্ত ও অনুসারীরা।
চলতি বছরের শুরুতেই মা হয়েছিলেন সাহারা। ২০১৬ সালে কানাডীয় পপ তারকা জাস্টিন বিবারের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও আলোচনায় উঠে এসেছিলেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন সাহারা। সোমবার মার্কিন বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শেষ মুহূর্তে স্বজনেরা তার পাশে ছিলেন।
সাহারার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ফেন্টানিল নামের শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্সেও একই ধরনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
তবে এসব প্রতিবেদনের দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। ওষুধ গ্রহণের ঘটনা ঘটে থাকলেও তা দুর্ঘটনাবশত হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য নেই। তাই সাহারার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাহারাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থার সহায়তায় রাখা হয়। পরে রোববার পরিবারের সদস্যরা সেই ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানুয়ারিতে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন সাহারা। মেয়ের নাম রাখেন স্নো। মা হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়েকে ঘিরে নিজের অনুভূতি ও ভালোবাসার কথা নিয়মিত প্রকাশ করতেন তিনি।
গত ১৯ জুলাই ইনস্টাগ্রামে মেয়ের কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছিলেন সাহারা। ছোট্ট স্নোর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘আমার পুরো হৃদয়জুড়ে ছোট্ট স্নো।’ তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এটিই ছিল সর্বশেষ পোস্ট।
সাহারার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওই পোস্টে আবেগঘন মন্তব্য করছেন অনুসারীরা। অল্প বয়সী মেয়েকে রেখে তার চলে যাওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশের পাশাপাশি অনেকে স্মরণ করছেন তার শেষ পোস্টের কথাগুলোও।
মৃত্যুর আগের কয়েক বছরে নানা শারীরিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে সাহারাকে। ২০২৪ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, গিয়াঁ-বারে সিনড্রোম নামের একটি বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বছরের এপ্রিলে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার পর থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়।
সাহারার দাবি ছিল, মদ্যপ এক চালকের গাড়ির ধাক্কায় তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। এর পর একপর্যায়ে ঊরুর ওপরের অংশ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত অনুভূতি ও চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। দৈনন্দিন চলাফেরায় হুইলচেয়ার ও হাঁটার সহায়ক সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করতে হতো তাকে।
২০২৪ সালের মে মাসে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম সেভেন নিউজ তার অসুস্থতা ও পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সে সময় নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে সাহারা বলেছিলেন, আকস্মিক এই পরিস্থিতি তার জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। তারপরও সুস্থ হয়ে ওঠার আশা ছাড়েননি তিনি। পরবর্তী সময়ে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতিও হয়েছিল।
শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন সংকট নিয়েও প্রকাশ্যে কথা বলেছেন সাহারা। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি জানিয়েছিলেন, মাদক ও অ্যালকোহলের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ জন্য ৩০ দিনের একটি পুনর্বাসন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
মানসিক স্বাস্থ্য ও আসক্তির চিকিৎসা নেওয়ার অভিজ্ঞতাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন সাহারা। তবে অতীতে চিকিৎসা নেওয়ার সঙ্গে তার সাম্প্রতিক মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার পরিচিত সার্ফার টনি রের মেয়ে সাহারা শৈশবের বড় একটি সময় কাটিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইয়ে। ছোটবেলা থেকেই সমুদ্র ও সার্ফিংয়ের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। পরবর্তী সময়ে মডেলিংয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন ডিজাইনেও নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি।
২০১৪ সালে নিজের সাঁতারের পোশাকের ব্র্যান্ড ‘সাহারা রে সুইম’ চালু করেন সাহারা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফ্যাশন জগতেও পরিচিতি পান তিনি।
২০১৬ সালে হাওয়াইয়ে জাস্টিন বিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর কয়েকটি ছবি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। এর আগে অস্ট্রেলীয় সংগীতশিল্পী কোডি সিম্পসনের সঙ্গেও সাহারার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।


































