ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো কারাবন্দি অবস্থায় বই পড়ার মাধ্যমে তার ২৭ বছরের দণ্ড কমানোর একটি ব্যতিক্রমধর্মী সুযোগ পাচ্ছেন।
অভ্যুত্থানচেষ্টার ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হয়ে গত বছর তাকে এই দীর্ঘ মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়। ব্রাজিলের প্রচলিত আইনে কারাবন্দিরা প্রতিটি বই পাঠের বিপরীতে চার দিন করে সাজা কমানোর সুযোগ পান, আর এই বিধান কাজে লাগাতেই তৎপর হয়েছেন বলসোনারোর আইনজীবীরা।
আইনজীবীদের আবেদনের পর দেশটির সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারক তাকে কারাগারের নির্ধারিত বই-পাঠ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।
তবে বই পড়ার বিষয়ে বলসোনারোর অনাগ্রহ আগে থেকেই পরিচিত। একসময় প্রকাশ্যে তিনি স্বীকার করেছিলেন, পড়ার জন্য তার সময় নেই এবং তিন বছরেও তিনি একটি বই পড়েননি।
কারা কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত পাঠতালিকায় রাখা হয়েছে আদিবাসী অধিকার, বর্ণবাদ, পরিবেশ ও ১৯৬৪ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত চলা সামরিক শাসনামলের নিপীড়ন নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই—যে সামরিক শাসনব্যবস্থার প্রতি বলসোনারো অতীতে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
তালিকায় রয়েছে আনা মারিয়া গনসালভেসের প্রায় ৯৫০ পৃষ্ঠার উপন্যাস ‘এ কালার ডিফেক্ট’, পাশাপাশি টলস্টয়ের ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ এবং সার্ভান্তেসের ‘ডন কুইক্সোট’-এর মতো দীর্ঘ ও ক্লাসিক সাহিত্যকর্ম। এমনকি শিশুদের জন্য লেখা ‘ডেমোক্রেসি!’ নামের বইটিও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সাজা কমানোর সুবিধা পেতে হলে বন্দিদের অবশ্যই প্রমাণ করতে হয় যে তারা নির্ধারিত বইগুলো সত্যিই পড়েছেন। এ জন্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে বইয়ের ওপর লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় নিজের প্রিয় বই হিসেবে বলসোনারো যে গ্রন্থটির নাম উল্লেখ করেছিলেন, সেটি ছিল এক কুখ্যাত সামরিক কর্মকর্তার লেখা—যিনি স্বৈরশাসনামলে বন্দিদের নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।
তবে সেই বইটি বিচার বিভাগের অনুমোদিত পাঠতালিকায় নেই। বর্তমানে ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় অবস্থিত সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে আটক রয়েছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।


































