চিফ প্রসিকিউটরের মন্তব্য, গুমের বিচার জাতিসত্তা রক্ষার জন্য জরুরি

চিফ প্রসিকিউটরের মন্তব্য, গুমের বিচার জাতিসত্তা রক্ষার জন্য জরুরি ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:৪১, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

জাতিসত্তা রক্ষার স্বার্থে গুমের বিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। 이날 জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার বা জেআইসিতে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, আজকের সাক্ষ্যগ্রহণ বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলার অংশ। এটি গুমের বিচার সংক্রান্ত মামলা। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে শেখ হাসিনার আমলে গুমকে এক প্রকার সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছিল। এই সময়কালে যেকোনো ব্যক্তিকে নির্বিচারে নিখোঁজ করা যেত এবং এর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা ব্যবহার করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো জবাবদিহি করা হতো না।

তাজুল ইসলাম বলেন, গুমের সংস্কৃতিকে রোধ করার জন্য এই বিচার অপরিহার্য। যদি বাংলাদেশে এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধের বিচার না হয়, তাহলে গুমের সংস্কৃতি আবার ফিরে আসবে। যারা দেশের স্বাধীনতা, বৈষম্যহীন সমাজ বা বাকস্বাধীনতার জন্য গুম হয়েছেন, তাদের আত্মা চিরকাল কাঁদবে। তিনি আদালতকে স্মরণ করিয়ে দেন, এই বিচার আমাদের জাতিসত্তা রক্ষার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, গোপন বন্দিশালায় বন্দিদের আট বছরেরও বেশি সময় ধরে আটক রাখা হয়েছে। এছাড়া আরও বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

এই মামলায় আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিচ্ছেন বিএনপি নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এর মাধ্যমে তারা জাতির কাছে বার্তা দিতে চাচ্ছেন যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে মুক্তি—সেটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৭ বছরের ভয়াবহ অন্ধকার রাজত্বের অবসান ঘটানোর স্বার্থে আসামিদের বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের যে কোনো উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বা ইউনিফর্মধারী ব্যক্তিই অপরাধ করুক, তাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং আইনের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এই লক্ষ্য পূরণে এই বিচার শুরু হয়েছে, ইনশা আল্লাহ।

সাক্ষীর জবানবন্দি সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সাক্ষী বর্ণনা করছেন কিভাবে মানুষদের জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হতো, প্রথমে অস্বীকার করানো হতো, কিংবা কীভাবে জমটুপি পরিয়ে নির্যাতন করা হতো।

গোপন বন্দিশালায় দিন-রাতের পার্থক্য বোঝা যেত না। এছাড়া, বন্দিদের কী ধরনের খাবার দেওয়া হতো, অসুস্থ হলে চিকিৎসা ব্যবস্থা কেমন ছিল এবং ওষুধপত্রে কী লেখা থাকতো—এসব বিষয়ও সাক্ষী বর্ণনা করছেন।

এই প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হলেও এর প্রভাব জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেছেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement