ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন সংকট

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন সংকট ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২৩:১১, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি আবারও বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়ছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ডাল জাতীয় শস্যের ওপর ভারতের আরোপিত ৩০ শতাংশ আমদানি শুল্ক, যা দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

এই শুল্ককে ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রভাবশালী সিনেটর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন ডাল উৎপাদনকারীরা গুরুতর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং ভারতীয় বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাচ্ছেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত ওই চিঠিতে রিপাবলিকান সিনেটর স্টিভ ডেইনস ও কেভিন ক্রেমার ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা চান, ভারতের ওপর কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগ করে এই শুল্ক প্রত্যাহার করানো হোক।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত বছর ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়াতেই নীরবে ডাল জাতীয় শস্যে ৩০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে নয়াদিল্লি।

সিনেটরদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা ও উত্তর ডাকোটা রাজ্য ডাল ও মটরশুঁটি উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র। অপরদিকে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডাল ভোক্তা দেশ, যা বৈশ্বিক মোট চাহিদার প্রায় ২৭ শতাংশ ব্যবহার করে। গত বছরের ৩০ অক্টোবর ভারত সরকার হলুদ মটরশুঁটির ওপর ৩০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, যা ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এই উচ্চ শুল্কের কারণে ভারতীয় বাজারে মার্কিন কৃষিপণ্য অন্য দেশগুলোর তুলনায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। সিনেটরদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা গেলে তা মার্কিন উৎপাদক ও ভারতীয় ভোক্তা—উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে।

তারা ট্রাম্পের আগের মেয়াদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ২০২০ সালের বাণিজ্য আলোচনার সময়ও একই বিষয় তারা উত্থাপন করেছিলেন। সে সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই তাদের চিঠি প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে পৌঁছে দেন, যা মার্কিন উৎপাদকদের জন্য আলোচনার টেবিলে জায়গা করে দিতে সহায়ক হয়েছিল।

সিনেটরদের ধারণা, বৈশ্বিক বাণিজ্যের অসমতা দূর করতে পারলে মার্কিন কৃষকরা বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে তার জন্য ভারতের মতো বড় বাজারে অনুকূল ও ন্যায্য বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি বলে তারা জোর দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভারতকে ‘জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স’ (জিএসপি) সুবিধা থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। বর্তমানে মসুর ডাল, ছোলা ও মটরশুঁটির মতো ডালজাত পণ্যে ভারতের কঠোর শুল্কনীতি নতুন কোনো বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।

সবশেষে মার্কিন সিনেটররা ট্রাম্পকে অনুরোধ জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে যেকোনো নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ডাল জাতীয় শস্যের জন্য বিশেষ ও সুবিধাজনক শর্ত অন্তর্ভুক্ত করতে। এই বাণিজ্যিক টানাপড়েন দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে মার্কিন কৃষিপণ্যের ভবিষ্যৎ এবং ভারতীয় বাজারের স্থিতিশীলতার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement