১৫ দেশের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ
Published : ১৩:০২, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরান-এর পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে তেহরান ও ওয়াশিংটন-এর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় দেশটি ছাড়তে শুরু করেছেন বহু বিদেশি নাগরিক।
ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং চীনসহ বিশ্বের ১৫টির বেশি দেশ তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
একই সঙ্গে এসব দেশ ইরানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা জারি করেছে এবং নতুন করে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর এক কঠোর ও বিস্ফোরক মন্তব্যের পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। তার ওই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও উসকে দেয়।
এর আগে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের পরমাণু ইস্যুতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা শুরু হয়। সর্বশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভা-য় পঞ্চম দফার সংলাপ শেষ হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান।
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পাঁচ দফা আলোচনার পর যে প্রস্তাব বা ফলাফল সামনে এসেছে, তা তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ও বিতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত অচলাবস্থায় পড়ে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, কিছু গৌণ বিষয়ে সীমিত অগ্রগতি হলেও মূল বিরোধপূর্ণ প্রশ্নগুলো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। এদিকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমা ও ইসরায়েল অঞ্চলে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরি এবং উন্নতমানের যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিকবার সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি নির্দিষ্ট শর্ত মেনে না নেয়, তাহলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এমন ইঙ্গিতের পরিপ্রেক্ষিতেই বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে আকাশপথের যোগাযোগও সংকটের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বহু দেশ থেকেই সরাসরি তেহরানে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয় না; সাধারণত যাত্রীদের ইস্তাম্বুল হয়ে যাতায়াত করতে হয়।
তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Agence France-Presse (এএফপি) জানিয়েছে, সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেহরান-ইস্তাম্বুল রুটের সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
ফলে ইরানে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন এবং দেশটিতে যাওয়ার পরিকল্পনায় থাকা যাত্রীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র: এএফপি, গালফ নিউজ।
বিডি/এএন





























