ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণ

ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:৫৯, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে ইরানজুড়ে সমন্বিত সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে শুরু হওয়া এই যৌথ হামলাকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ‘আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা’ বা প্রি-এম্পটিভ অ্যাটাক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য তেহরানে অবস্থিত ইরানের প্রেসিডেন্ট ভবন।

পাশাপাশি ইরানবিরোধী বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দেশটির শীর্ষ নেতাদের বাসভবন এবং যেসব সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলা চালানো হতে পারে সেসব জায়গাকেও নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এই সামরিক পদক্ষেপের ঠিক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউস-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জেনেভায় তৃতীয় দফার আলোচনা শেষ হলেও ইরানের আচরণে তিনি সন্তুষ্ট নন।

ট্রাম্পের ভাষ্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগে সম্মত হয়নি। তিনি আরও বলেন, তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগ এড়াতে চান, তবে কিছু পরিস্থিতিতে তা অনিবার্য হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে।

তার এই কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরানের আকাশে মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবং একের পর এক বিস্ফোরণের খবর আসে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ইসরায়েল রাষ্ট্রের নিরাপত্তার ওপর যে ঝুঁকি ও সম্ভাব্য হুমকি তৈরি হয়েছিল, তা স্থায়ীভাবে দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বছরের জুন মাসেও মার্কিন বাহিনী ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। বিশেষ করে ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান-এর পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত ফোর্দোর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ধ্বংস করাই ছিল তখনকার অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানা যায়।

সাম্প্রতিক হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েলজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। Israel Defense Forces (আইডিএফ) নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা বোমা শেল্টারের নিকটে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে।

যদিও এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আনুষ্ঠানিক খবর পাওয়া যায়নি, তবুও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো তেহরানে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারের হামলায় ইরানের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারগুলো লক্ষ্য করে অত্যাধুনিক গাইডেড মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে, যা সামরিক অবকাঠামোকে অকার্যকর করার উদ্দেশ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement