ইরানে চরম উত্তেজনা: খামেনির দপ্তরের সামনে বিস্ফোরণ
Published : ১৩:৩১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরান-এর রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত শহরে আকস্মিক ও তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানে তেহরানের বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর স্থানে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর কার্যালয়ের খুব কাছাকাছি এলাকায়ও শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।
রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সামরিক গুরুত্বসম্পন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণে পুরো তেহরান প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা Fars News Agency জানিয়েছে, তেহরানের ব্যস্ত ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট এবং প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জোমহুরি এলাকায় একাধিক ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। এসব এলাকায় সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক স্থাপনা অবস্থিত।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা গেছে, বিস্ফোরণের পরপরই ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে।
বিভিন্ন সড়কে তল্লাশি চৌকি বসানো হয় এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত ইরান সরকারের পক্ষ থেকে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। খামেনির কার্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনাকে অনেকেই দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে দেখছেন।
এদিকে তেহরানে হামলার সমান্তরালে Israel Defense Forces (আইডিএফ) নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ জাতীয় সতর্কতা জারি করেছে। সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলার আশঙ্কায় গোটা ইসরায়েলজুড়ে ‘জরুরি অবস্থা’ কার্যকর করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইডিএফ জানায়, অল্প সময়ের ব্যবধানে ইসরায়েলের প্রায় প্রতিটি শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠেছে। নাগরিকদের মোবাইল ফোনে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ের কাছাকাছি অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে সমগ্র অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিডি/এএন





























