যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা কতদিন চলবে, মুখ খুললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা কতদিন চলবে, মুখ খুললেন ট্রাম্প ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:৩৮, ১ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা ও নানা গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর মৃত্যুর খবর। গতকাল (২৮ ফেব্রুয়ারি) সারাদিন ধরে তার মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও পরবর্তীতে আর তা গোপন রাখেনি সরকার।

সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে খামেনির মৃত্যুর পরও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম শেষ হয়নি—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান আরও কতদিন চলতে পারে, সে বিষয়েও একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

রোববার (১ মার্চ) মধ্যরাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ খামেনির মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।

সেই পোস্টে তিনি লেখেন, “ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যক্তিদের একজন খামেনি নিহত হয়েছে।”

নিজের দীর্ঘ বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, খামেনি ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর শাসক ছিলেন এবং তার মৃত্যু শুধু ইরানের জনগণের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেইসব মানুষের জন্যও এক ধরনের প্রত্যাশিত বিচার, যারা তার নির্দেশে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছিল।

তিনি বলেন, অত্যাধুনিক গোয়েন্দা নজরদারি ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি অভিযান চালানো হয়েছে, যাতে খামেনি বা তার সঙ্গে নিহত অন্য নেতাদের কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ ছিল না।

ট্রাম্প আরও লেখেন, ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধারের এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ। তার দাবি, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য আর যুদ্ধ করতে আগ্রহী নয় এবং তারা নিরাপত্তা বা ক্ষমার আবেদন জানাচ্ছে।

তিনি বলেন, আগেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে—এখনই সুযোগ রয়েছে আত্মসমর্পণ বা সমঝোতার; দেরি হলে কঠোর পরিণতি এড়ানো যাবে না।

পরবর্তী অংশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, বিপ্লবী গার্ড ও পুলিশ বাহিনী ইরানি দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে।

তার ভাষায়, এই প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হওয়া প্রয়োজন, কারণ মাত্র একদিনের ব্যবধানে দেশটি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা চলতে পারে—পুরো সপ্তাহজুড়ে বা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও দীর্ঘ সময় ধরে।

বিবিসি–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে হামলা চালায়, সেই আক্রমণেই তিনি নিহত হন। পরবর্তীতে প্রাসাদ কমপ্লেক্সের ভেতর থেকে উদ্ধারকারীরা তার মরদেহ উদ্ধার করে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তার প্রাসাদ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা হামলার ব্যাপকতারই ইঙ্গিত বহন করে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement