খামেনির মৃত্যুতে ট্রাম্পকে কৃতজ্ঞতা জানালেন নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভী
Published : ১৩:০৭, ১ মার্চ ২০২৬
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর মৃত্যুকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের নির্বাসিত সাবেক যুবরাজ রেজা শাহ পাহলভী। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট–এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এই ঘটনাকে ইরানি জনগণের জন্য “স্বাধীনতার এক ঐতিহাসিক সুযোগ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
লেখার শুরুতেই পাহলভী ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–কে, যিনি সম্প্রতি ইরানিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “তোমাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে।” পাহলভীর মতে, এই বক্তব্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ এবং ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
তার ভাষ্যে, প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র শুধু নিজ দেশের জনগণের অধিকার সীমিত করেনি, বরং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বেও হস্তক্ষেপ করেছে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের মাধ্যমে তেহরান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
তবে পাহলভীর মতে, শাসনব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ ঘটেছে দেশের ভেতরেই। বিশেষ করে গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে হাজারো প্রতিবাদকারী নিহত হওয়ার ঘটনাকে তিনি “অমানবিক” আখ্যা দেন এবং এটিকে জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার চূড়ান্ত উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের প্রস্তাবনায় পাহলভী বলেন, এখন প্রয়োজন একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন, যা গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদন পাবে। এরপর আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি লেখেন, “ইতিহাস খুব কম ক্ষেত্রেই তার মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত আগে থেকে ঘোষণা করে। কিন্তু এমন সময় আসে, যখন সাহসী নেতৃত্ব, জাতীয় ঐক্য এবং দৃঢ় সংকল্প একটি জাতির ভবিষ্যৎ নতুন করে নির্মাণ করতে পারে।”
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই নির্বাসিত নেতার সম্ভাব্য ভূমিকা ও প্রভাব কতটা জোরালো হতে পারে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন বিস্তর আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে পাহলভী পরিবার দেশের বাইরে অবস্থান করছে।
বিডি/এএন



























