ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা কে? চলছে জল্পনা-কল্পনা
Published : ১১:৫১, ১ মার্চ ২০২৬
দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা ও নানা গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর মৃত্যুর খবর।
গতকাল (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর সারাদিন তার মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও পরবর্তীতে আর তা গোপন রাখা হয়নি। ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।
খামেনির মৃত্যুর পর এখন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন—তা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ইতোমধ্যে পাঁচজনের নাম সামনে এসেছে।
রোববার (১ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী সম্ভাব্য পাঁচজন প্রার্থী হলেন—
মোজতাবা খামেনি : ৫৬ বছর বয়সী মোজতাবা খামেনি প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং আধাসামরিক বাসিজ বাহিনীর ওপর তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
তবে ইরানের শিয়া শাসনব্যবস্থায় পারিবারিক উত্তরাধিকারকে সরাসরি সমর্থন করা হয় না। এছাড়া তিনি উচ্চপর্যায়ের ইসলামি পণ্ডিত হিসেবে স্বীকৃত নন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় তার আনুষ্ঠানিক ভূমিকা সীমিত—এ বিষয়গুলো তার সম্ভাবনার পথে বাধা হতে পারে।
আলীরেজা আরাফি : ৬৭ বছর বয়সী আলীরেজা আরাফি সাধারণ মানুষের কাছে ততটা পরিচিত না হলেও তিনি খামেনির ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে তিনি ইরানের আলেম পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং শক্তিশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য।
এই কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীদের অনুমোদন এবং আইন যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করে। এছাড়া আরাফি ইরানের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধানও। তবে তিনি রাজনৈতিকভাবে খুব প্রভাবশালী নন এবং সামরিক বা নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে তার সম্পর্কও তুলনামূলক দুর্বল।
মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি : ৬০ বছর বয়সী মিরবাঘেরি একজন কট্টরপন্থি ইসলামি আলেম এবং ইরানের কেন্দ্রীয় আলেম পরিষদের সদস্য। তাকে রক্ষণশীল আলেমদের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইরানের সরকারবিরোধী সংবাদমাধ্যম ইরান ওয়্যার–এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচক এবং বিশ্বাস করেন মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে আদর্শগত সংঘাত অনিবার্য। বর্তমানে তিনি উত্তরাঞ্চলীয় শহর কোমে অবস্থিত একটি ধর্মীয় বিজ্ঞান একাডেমির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
হাসান খোমেনি : ৫০ বছর বয়সী হাসান খোমেনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা ও প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি–এর নাতি। বর্তমানে তিনি তার দাদার সমাধিসৌধের প্রধান রক্ষকের দায়িত্বে আছেন।
তবে প্রশাসনিক বা নির্বাহী কাঠামোয় এখনো তিনি বড় কোনো পদে আসীন হননি। সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীতেও তার প্রভাব সীমিত। তুলনামূলকভাবে তাকে কম কঠোর মনোভাবাপন্ন হিসেবে দেখা হয়।
হাশেম হোসেইনি বুশেহরি : ষাটোর্ধ্ব এই জ্যেষ্ঠ ইসলামি পণ্ডিত ইরানের আলেম পরিষদের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান এবং উত্তরাধিকার ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত। খামেনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার প্রভাবশালী সম্পর্ক নেই বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে বিবিসি–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে হামলা চালায়, সেই আক্রমণেই তিনি নিহত হন। পরবর্তীতে প্রাসাদ কমপাউন্ড থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তার প্রাসাদ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
এ ছাড়া ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাইও নিহত হয়েছেন।
বিডি/এএন



























