ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে কে এই মোজতবা খামেনি
Published : ১১:২০, ৪ মার্চ ২০২৬
টানা দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেল সাত বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরা। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঘটে যাওয়া সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার পেছনে উঠে এসেছে প্রতিবেশী বাবু শেখের নৃশংস পরিকল্পনার তথ্য।
ঘটনার পরপরই তৎপর হয় জেলা পুলিশ। সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকা থেকে পাহাড়ি অঞ্চল পর্যন্ত পুরো সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয় এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে ৪৫ বছর বয়সী বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার স্থায়ী বাড়ি গাইবান্ধা জেলায় হলেও তিনি ভাড়া থাকতেন শিশুটির বাড়ির পাশেই।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে জান্নাতুল নাইমা ইরাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বাবু শেখ। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত এ তথ্য স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাবু শেখ শিশুটিকে চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। কুমিরা থেকে বাসে করে সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে সেখান থেকে হেঁটে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।
সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে। পরে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে সে।
এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটি কোনোভাবে নির্মাণাধীন সড়কের দিকে উঠে এলে সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা তাকে দেখতে পান এবং উদ্ধার করেন। বেলা আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে তারা থানায় খবর দেন।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ ভোরে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন আরও জানান, কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ড পাহাড় পর্যন্ত বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, রোববার শিশুটির মা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে যে মামলা দায়ের করেছিলেন, সেটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম।
বিডি/এএন






























