রক্তাক্ত মার্কিন ঘাঁটিতে ৬৫০ সেনা হতাহতের দাবি করল ইরান

রক্তাক্ত মার্কিন ঘাঁটিতে ৬৫০ সেনা হতাহতের দাবি করল ইরান ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২২:০৭, ৩ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এক বিস্ময়কর দাবি উত্থাপন করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত দুই দিনে পরিচালিত তাদের পাল্টা সামরিক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এ অন্তত ৬৫০ জন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েনি এ তথ্য প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, যার ফলেই এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

আইআরজিসির দেওয়া তথ্য অনুসারে, ইরানের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন একাধিকবার আঘাত হানে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর-এর সদর দপ্তরে, যা বাহরাইন-এ অবস্থিত। তাদের দাবি, এসব হামলায় মার্কিন বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

নায়েনি আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয় এবং সেখানে অন্তত ১৬০ জন মার্কিন সেনা হতাহত হন। পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীর এমএসটি কমব্যাট সাপোর্ট জাহাজ ইরানি নৌবাহিনীর নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পেন্টাগন কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

আইআরজিসির মুখপাত্র আরও দাবি করেন, ইরানি নৌবাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন সংশ্লিষ্ট এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব ইরান-এর চাবাহার উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত ওই রণতরীটিকে লক্ষ্য করে চারটি শক্তিশালী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। হামলার পর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারটি দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের দিকে সরে যায় বলে দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেঙে পড়ার পর গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের ওপর একযোগে সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে, যার জেরে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement