ইরানে ভয়াবহ পরিস্থিতি প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭
Published : ১৯:০৬, ৩ মার্চ ২০২৬
ইরান-এর ভূখণ্ডে টানা চার দিন ধরে চলতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ফরাসি বার্তা সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি)।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার শুরু হওয়া এ অভিযানের আওতায় এখন পর্যন্ত ইরানের ১৫৩টি শহর এবং ৫০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনায় এক হাজারের বেশি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
যদিও হতাহতের এ সংখ্যাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি, তবুও সংস্থাটির মাঠপর্যায়ের উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ধারাবাহিকভাবে মরদেহ উদ্ধার করে চলেছেন।
এদিকে মঙ্গলবার সকালেও রাজধানী তেহরান-এ একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে এএফপির প্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোর থেকেই তেহরানের আকাশে যুদ্ধবিমানের তীব্র গর্জন শোনা যায় এবং বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।
পাশাপাশি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানীর নিকটবর্তী শিল্পশহর কারাজ এবং মধ্যাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহান-এও নতুন করে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়নি। বিশেষ করে আবাসিক এলাকাগুলোতে হামলার ফলে মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, বহু এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে থাকতে পারেন, ফলে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন তেহরানের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) একযোগে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বিডি/এএন































