মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা

মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:৫৭, ৩ মার্চ ২০২৬

ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁয় আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার কথা ছিল ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর।

তবে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে মঞ্চে ওঠাকে কেন্দ্র করে আয়োজকদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। এ ঘটনায় অভিনেত্রী আয়োজকদের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ তুললে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মানহানির অভিযোগসহ ক্ষতিপূরণ দাবি এবং অনুষ্ঠানের পারিশ্রমিক ফেরত চেয়ে মিমির কাছে আইনি নোটিশ পাঠান আয়োজক তনয় শাস্ত্রী। সর্বশেষ এই ঘটনাকে ঘিরে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন আয়োজকপক্ষ।

আয়োজক তনয় শাস্ত্রীর পক্ষে তার আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মিমি চক্রবর্তীর কাছ থেকে ২০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি অগ্রিম হিসেবে নেওয়া ২ লাখ ৬৫ হাজার রুপি ফেরত চাওয়া হয়েছে।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৫ জানুয়ারি বনগাঁয় অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে রাত সাড়ে ১০টায় মিমির মঞ্চে ওঠার কথা ছিল। তবে আয়োজকদের দাবি, তিনি মঞ্চে ওঠেন রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের অনুমতি থাকায় তাকে দ্রুত অনুষ্ঠান শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়।

এই ঘটনার পর মিমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে আয়োজকদের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় তার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন। আয়োজক তনয় শাস্ত্রীর দাবি, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এর ফলে তাকে পুলিশি হেফাজতে থাকতে হয়েছে, যা তার সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।

অন্যদিকে মিমি চক্রবর্তী অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা ২ কোটি রুপির মানহানির মামলা দায়ের করেছেন। তার বক্তব্য, তিনি নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে কোনো মেকআপ রুমের ব্যবস্থা ছিল না।

পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় তিনি নিজের গাড়িতেই অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। পরে মঞ্চে ওঠার পর তাকে মাত্র দুটি গান পরিবেশন করেই নেমে যেতে বলা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি আয়োজকদের পক্ষ থেকে অশালীন আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন অভিনেত্রী।

এখন উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি আইনি পদক্ষেপে বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে। তনয় শাস্ত্রীর আইনজীবীর দাবি, সেদিন ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল এবং ভিডিও ফুটেজে প্রমাণ রয়েছে যে মিমির সঙ্গে কোনো ধরনের অশালীন আচরণ করা হয়নি। ফলে পুরো বিষয়টি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement