ইরা হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি গ্রেপ্তার
Published : ২১:১০, ৩ মার্চ ২০২৬
সীতাকুণ্ড-এর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সাত বছরের শিশু ইরাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই নির্মম ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে একই দিন ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে শিশুটি। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে সে বর্বরোচিত যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক-এর ভেতরে একটি নির্জন পাহাড়ি স্থানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা।
শিশুটির গলা থেকে তখন অবিরাম রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। উপস্থিত শ্রমিকরা মানবিকতার পরিচয় দিয়ে নিজেদের পরনের কাপড় ছিঁড়ে তার গলায় বেঁধে রক্তপাত বন্ধের চেষ্টা করেন এবং দ্রুত তাকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে যান।
সেখানকার চিকিৎসকরা অবস্থার অবনতি দেখে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর অবশেষে সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, শিশু ইরার বাড়ি উপজেলার কুমিরা এলাকায়। যেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়, সেটি তার বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এত অল্প বয়সী একটি শিশুর পক্ষে একা এমন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যাওয়া প্রায় অসম্ভব বলেই ধারণা করছে তদন্তকারীরা। তাদের মতে, অভিযুক্ত বাবু শেখ তাকে প্রলোভন দেখিয়ে বা অপহরণ করে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই আসামিকে ধরতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার বিকেলে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সীতাকুণ্ড থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বিডি/এএন































