‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে বাংলাদেশ হবে বৈষম্যহীন, আলী রীয়াজ

‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে বাংলাদেশ হবে বৈষম্যহীন, আলী রীয়াজ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২১:৫৭, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, নতুন করে দেশ গড়ে তুলতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দিতে হবে।

আগামী দিনে তরুণদের হাতে কেমন বাংলাদেশ তুলে দেওয়া হবে, তার সিদ্ধান্ত হবে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটে। যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয় তবে তরুণরা একটি নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে। আজ ১৪ জানুয়ারি বুধবার বিকালে রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটাদের উদ্বুদ্ধকরণের জন্য আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের ইমাম সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদ কালো কালিতে লেখা হলেও মূলত এটি জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গণভোটে কোনো ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হচ্ছে না। দীর্ঘ ষোলো বছর ধরে জনগণের টাকা লুটপাট করা হয়েছে। লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধে ‘হ্যাঁ’ ভোট হবে। এছাড়া বাংলাদেশে যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ তৈরি না হয়, সেই জন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। গণভোট সেই সজাগ থাকার অন্যতম হাতিয়ার।

তিনি জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ’ হলো দেশে ইনসাফ কায়েমের ঐতিহাসিক দলিল। গত ৫৪ বছরের বৈষম্যের ইতিহাস মুছে ফেলা, স্বাধীনতার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন এবং ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

গণভোটের প্রচার কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোটকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে একটি চক্র শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই প্রোপাগান্ডা রুখে দিয়ে জনগণের কাছে সত্য তুলে ধরাই আমাদের প্রচারণার মূল লক্ষ্য। শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি বলেন, একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে আবু সাঈদের আত্মাহুতি জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে।

উপস্থিত ইমামগণের উদ্দেশে মনির হায়দার বলেন, গণভোটের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের মাধ্যমে সকল অপশাসন ও বৈষম্য দূর হবে এবং একটি নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে।

কারমাইকেল কলেজ জামে মসজিদের খতিব মোহাম্মদ আলী সরকারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কেরামতিয়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বায়েজিদ হোসাইন, রংপুর মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি আজগর আলী প্রমুখ। বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার ১ হাজার ২০০ জন ইমাম-খতিব ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে একই স্থানে বিকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অতীতে বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠী ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। এই অবস্থার অবসান ঘটিয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের এখনই উপযুক্ত সময়।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement