ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়াটারক্রেডিট জাতীয় প্রভাব প্রচার কর্মশালা
Published : ২২:১৫, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনে টেকসই অর্থায়নের সফল মডেল হিসেবে WaterCredit নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন খাতে টেকসই অর্থায়নের ইতিবাচক প্রভাব,
অর্জন এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে WaterCredit National Impact Dissemination Workshop।
ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর উদ্যোগে এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা water.org-এর সহায়তায় পরিচালিত WaterCredit প্রকল্পের জাতীয় পর্যায়ের প্রভাব তুলে ধরাই ছিল এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ে ইএসডিও’র প্রধান কার্যালয়ের জয়নাল আবেদিন অডিটোরিয়ামে কর্মশালার উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (PRL) মো. মাহবুবুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ ফিরোজ জামান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (DPHE) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইএসডিও’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের অন্যতম পূর্বশর্ত। WaterCredit একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মাঠপর্যায়ে পরীক্ষিত অর্থায়ন মডেল হিসেবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে লক্ষ্যভুক্ত এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত, জলবায়ু সহনশীল স্যানিটেশন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিবাহিত ও স্যানিটেশনজনিত রোগের প্রকোপ হ্রাস পেয়েছে।
WaterCredit প্রকল্প নারী ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। পানি সংগ্রহে সময় ও শ্রম কমে যাওয়ায় নারী ও শিশুরা শিক্ষা ও উৎপাদনমুখী কাজে বেশি সময় দিতে পারছে। কন্যাশিশুদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বেড়েছে এবং নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তিন বছর মেয়াদি WaterCredit প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ৩১,৬৭৭ জন ঋণগ্রহীতা সরাসরি উপকৃত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯৭ শতাংশ নারী। প্রকল্পটি গ্রামীণ ও শহর এলাকায় নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন স্থাপন, স্বাস্থ্যবিধি চর্চা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় ওয়াশ উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তা করছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল ইসলাম উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, “নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন টেকসই উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। WaterCredit-এর মতো উদ্ভাবনী অর্থায়ন উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই সমাধান গড়ে তুলতে সহায়ক।”
কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, ইএসডিও’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন।
বিডি/এএন





























