আগ্রাসন মোকাবিলায় শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত প্রস্তুত ইরান

আগ্রাসন মোকাবিলায় শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত প্রস্তুত ইরান ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২৩:৫৯, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ মাত্রার প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত—এমন বার্তাও দিয়েছে বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব।

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, আইআরজিসির বিমানবাহিনীর কমান্ডার সরদার মুসাভি বলেছেন, দেশটির সামরিক বাহিনী এখন ‘সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি’ অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানান, শত্রুপক্ষ যদি কোনো ধরনের হামলার চেষ্টা করে, তাহলে তা মোকাবিলার জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত।

সরদার মুসাভির ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের সঙ্গে গত জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। সে সময় যেসব সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, সেগুলো পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং বাহিনীর সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

এদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ আরও কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালানো হলে শত্রুপক্ষের জন্য ‘অনেক চমক’ অপেক্ষা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি জোরালো করার পরই তার এই মন্তব্য সামনে আসে।

ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাসিরজাদেহ বলেন, যদি এই হুমকি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে ইরান পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে এবং শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত দেশ রক্ষায় লড়াই করবে। তার ভাষায়, ইরানের প্রতিরোধ শত্রুদের জন্য হবে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।

একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদেরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হামলায় যারা সহায়তা করবে, তাদের সবাইকে তেহরান ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করবে। তিনি আরও জানান, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করা হয়েছে এবং সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন, উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত ঘিরে উত্তেজনা বাড়লেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে যোগাযোগ আপাতত স্থগিত রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি জোরদার হওয়ার মধ্যেই এই কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধের খবর সামনে এসেছে। টানা দুই সপ্তাহের প্রাণঘাতী সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর ইরান কঠোর অবস্থান নেওয়ায় বর্তমানে দেশটিতে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়েছে।

এর পাশাপাশি তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও পাল্টা হামলা চালানো হবে। এই সতর্কবার্তার মাধ্যমে পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement