রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনার অর্থ আর ঝুলবে না: গভর্নরের আশ্বাস

রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনার অর্থ আর ঝুলবে না: গভর্নরের আশ্বাস ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:০৫, ১২ মার্চ ২০২৬

রপ্তানি খাতে সরকারের নগদ প্রণোদনার অর্থ আর দীর্ঘদিন ঝুলে থাকবে না বলে তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

তিনি জানান, এখন থেকে প্রণোদনা সংক্রান্ত কোনো আবেদন দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষমাণ রাখা হবে না। বরং মাসিক ভিত্তিতে যেসব প্রণোদনা দেওয়া হয়, সেগুলোর অর্থ সংশ্লিষ্ট মাসের মধ্যেই পরিশোধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন। বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর নেতৃত্বে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। পরে বিজিএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে বিজিএমইএর নেতারা সমস্যাগ্রস্ত কয়েকটি ব্যাংকে আটকে থাকা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) এবং রপ্তানি আয়ের অর্থ নগদায়নে জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

তাদের মতে, সাবেক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ একীভূত হয়ে গঠিত ইসলামী ব্যাংকে থাকা অর্থ উত্তোলনে নানা জটিলতার কারণে অনেক তৈরি পোশাক কারখানা তারল্য সংকটে পড়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ এবং বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার মতো নিয়মিত ব্যয় মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছে।

এই পরিস্থিতি সম্পর্কে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতাধীন যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ সময় বিজিএমইএর নেতারা নগদ প্রণোদনার হার বাড়ানোর দাবিও জানান। তারা বিশেষ নগদ প্রণোদনার হার বর্তমান ০ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ, বিকল্প নগদ প্রণোদনা ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য প্রণোদনা ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন।

তাদের দাবি, প্রণোদনার অর্থ যদি নিয়মিত ও দ্রুত ছাড় করা না হয়, তাহলে অনেক কারখানা অচিরেই বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে শ্রমবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া বৈঠকে প্যাকিং ক্রেডিটের সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিমের আকার ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করার এবং এর মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে রপ্তানি ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা এবং এসএমই খাতের জন্য সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ আরও বাড়ানোর সুপারিশও করেন বিজিএমইএর নেতারা।

বৈঠকে বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement