রমজানে মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে করণীয়
Published : ০৪:১১, ১২ মার্চ ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। যেহেতু সারাদিন রোজা রেখে দিনের শেষ খাবারটি সাহ্রির সময় গ্রহণ করা হয়, তাই সাহ্রি শেষে অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করে তারপর ঘুমানো উচিত।
একইভাবে ইফতারের পরও অন্তত একবার দাঁত ব্রাশ করা ভালো। কারণ ইফতার বা সাহ্রির সময় সাধারণত বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খাবার যেমন জিলাপি, রসগোল্লা, রসমালাই কিংবা চিনিমিশ্রিত শরবত খাওয়া হয়ে থাকে। এসব খাবার খাওয়ার পর দাঁত পরিষ্কার না করলে মিষ্টির শর্করাজাতীয় উপাদান দাঁতের এনামেল ক্ষয় করতে পারে এবং দাঁতের নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে।
রোজা রাখার সময় দীর্ঘক্ষণ না খাওয়ার কারণে অনেকের মুখে দুর্গন্ধের সমস্যা দেখা দেয়। এর পেছনে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, নাক-কান-গলায় প্রদাহ কিংবা জিহ্বায় খাবারের প্রলেপ জমে থাকা—এমন বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
অনেক সময় রোজার সময় দাঁত ব্রাশের নিয়মও ঠিকমতো মানা হয় না। ফলে দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে থেকে মাড়িতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এসব সমস্যা এড়াতে ইফতার ও সাহ্রি—দুই সময়ের পরই নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভিটামিনের ঘাটতির কারণেও অনেক সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন ‘সি’-এর অভাবে এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়। তাই রোজার সময় ইফতারে ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত।
যেমন—লেবুর শরবত, জাম্বুরা, কমলালেবু, কামরাঙা, আমড়া, মাল্টা, আমলকী কিংবা আনারস। পাশাপাশি গাজর, শসা, টমেটো ও লেটুসপাতার মতো সবজির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে খেতেও পারেন, যা শরীরের জন্য উপকারী।
তবে কখনও কখনও শরীরের অন্য কোনো রোগ বা শারীরিক সমস্যার কারণেও মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষা করে সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা প্রয়োজন।
তবে বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, দাঁত ও মাড়িতে ডেন্টাল প্লাক জমে থাকার কারণে মাড়িতে প্রদাহ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে একজন ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে ডেন্টাল স্কেলিং করিয়ে নেওয়া উপকারী হতে পারে। এতে দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কার থাকে এবং মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
বিডি/এএন


































