পদ্মা ব্যারেজ, দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত
Published : ১৯:২৩, ৩ নভেম্বর ২০২৬
পদ্মা ব্যারেজ, ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রকল্প তিনটির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত নকশা ও প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, পদ্মা ব্যারেজ, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এগুলো বাস্তবায়নের আগে সমন্বিত পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতেই মূলত এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনও পেয়েছে। অন্যদিকে, পদ্মা নদীতে ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের বিষয়টি নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহত্তর রংপুরকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণেরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে।
পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ব্যারেজের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি যোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে এর সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ব্যারেজ ও সেতুর মধ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে কি না, নাকি একটি অন্যটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে—তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতুও বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। সমীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত নকশা তৈরি, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন এবং পরবর্তী সময়ে ভৌত কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে বৃহত্তর রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। এরপর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা ও প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নদীর প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।





























