জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ আনাসের মা আবেগঘন কণ্ঠে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে সব শহীদ হত্যার বিচার নিশ্চিত হবে—এ বিশ্বাস তারা ধারণ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার যে উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশা নিয়ে গঠিত হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি। দীর্ঘ সময় পার হলেও তার সন্তানের হত্যাকারীরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় শহীদ জাহিদের মা ফাতেমাতুর জোহরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার সন্তানের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, বড় ছেলেকে হারানোর পর তার জীবন সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে গেছে। সন্তানের মৃত্যুর পর অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও সেই শূন্যতা আজও পূরণ হয়নি। যিনি একসময় ‘আম্মু’ বলে ডাকতেন, আজ সেই ডাক শোনার মতো কেউ আর নেই—এ কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি আরও বলেন, এই কঠিন সময়ে বিএনপির পরিবারের সহযোগিতা না পেলে সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না। অনেকেই পাশে দাঁড়াননি, কিন্তু বিএনপি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সবশেষে ফাতেমাতুর জোহরা তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান এবং তার পরিবার ও তার মায়ের জন্য দোয়া করেন। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও তারেক রহমান তাদের পাশে থাকবেন—এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।





























