নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে বাধা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) কসবার সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে গঠিত নির্বাচনী বিচারিক কমিটির প্রধান আশরাফুল ইসলামের বরাবর এই চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে ইউএনও উল্লেখ করেন, একই দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় একটি বড় প্যান্ডেল স্থাপন করে রুমিন ফারহানা জনসমাবেশের আয়োজন করেন এবং সেখানে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এতে নির্বাচনী আচরণবিধিমালা–২০২৫-এর ১৮ নম্বর ধারা লঙ্ঘিত হওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার শাহরিয়া হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সমাবেশটি ভেঙে দেন।
অভিযানকালে জুয়েল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন শুভও দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
ইউএনওর অভিযোগ অনুযায়ী, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চলাকালে রুমিন ফারহানা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে একাধিকবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেন এবং আঙুল উঁচিয়ে নানা ধরনের হুমকি দেন। তিনি ইংরেজিতে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম আই ওয়ার্নিং ইউ, আই উইল নট লিসেন টু দিজ।’ একই সঙ্গে বাংলা ভাষায় বলেন, ‘আপনি পারলে থামাই দেন। আজকে ভদ্রতা দেখাচ্ছি, নেক্সট টাইম কিন্তু এই ভদ্রতা করব না।’ এ সময় তিনি আক্রমণাত্মকভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রশাসনের উদ্দেশে কটূক্তিও করেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, রুমিন ফারহানার সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বলেন, ‘বুইড়া আঙ্গুল দেখাই, আপনারা কিছু করতে পারেন না।’ একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ও তাঁর সহযোগীরা উপস্থিত জনতার দিকে ইঙ্গিত করে হুমকি দিতে থাকেন এবং জনগণকে উত্তেজিত করে একটি মব তৈরির চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, ‘আজকে আমি আঙুল তুলে বলে গেলাম, আমার এই মানুষ, এইখান থেকে বাইর হইতে পারবেন না।’ এমনকি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমি যদি না বলি, এখান থেকে বাইরে যেতে পারবেন না, মাথায় রাইখেন।’ এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা জুয়েল মিয়াসহ অন্যরা মারমুখী আচরণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ইউএনও তার চিঠিতে বলেন, এভাবে মব সৃষ্টি করে বিচারিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া এবং কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এর আগেও গত ১১ জানুয়ারি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে রুমিন ফারহানার এক সমর্থক আশিকুর রহমানকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচনী বিচারিক কমিটির কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।





























