প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর দিলো মালদ্বীপ

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর দিলো মালদ্বীপ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:০০, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

মালদ্বীপে অবস্থানরত ও কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অধিকার, মর্যাদা এবং সার্বিক কল্যাণ সুরক্ষার লক্ষ্যে মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, তাদের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সম্প্রতি মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল সিপি (অব.) আহমেদ ফাসীহ উপস্থিত ছিলেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বৈঠকে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল হাইকমিশনারকে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের সাম্প্রতিক ডিজিটাল উদ্যোগসমূহ সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে দেশটিতে ই-ভিসা সিস্টেম এবং একটি ইমিগ্রেশন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি জটিলতা থাকলেও সেগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরা অনলাইনে নিজেদের ভিসার অবস্থা যাচাই করতে পারবেন। পাশাপাশি নিকট ভবিষ্যতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসা ইস্যুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যেসব প্রবাসী বৈধ ভিসাধারী, তারা নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-ভিসায় রূপান্তরের সুবিধা পাবেন। নতুন ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নানাবিধ সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালদ্বীপে প্রবেশ করলেও প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান না পেয়ে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। তথাকথিত ‘ফ্রি-ভিসা’ প্রথা বন্ধে সমন্বিত সচেতনতা গড়ে তোলা এবং শ্রমিকদের শোষণ ও প্রতারণা থেকে রক্ষায় কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তিনি জোর দেন।

এছাড়া ডলার সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ ও স্বচ্ছ ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা, ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি এবং প্রবাসীদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণায় জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রাপ্ত বিভিন্ন অভিযোগ ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করেন হাইকমিশনার।

জবাবে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল আশ্বস্ত করেন যে, যথাযথ তদন্ত ও যাচাইয়ের ভিত্তিতে প্রতারণায় জড়িত কোম্পানি ও নিয়োগকর্তাদের ব্ল্যাকলিস্ট বা কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মালদ্বীপের লেবার রিলেশন অথরিটি (এলআরএ)-তে অভিযোগ দাখিল করার পরামর্শও দেন তিনি। বৈঠকে উভয় পক্ষই দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থার গুরুত্বের ওপর একমত পোষণ করেন।

এদিকে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফিকেশন লেটার প্রয়োজন হবে। কোনো প্রবাসীকে গ্রেপ্তার বা বহিষ্কার করা হলে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো হয় বলেও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি জানানো হয়, আইনানুগ বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে গড়ে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement