তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ বিভাগ

তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ বিভাগ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৪:৪৭, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা একটি ডিপার্টমেন্ট গঠন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সভাপতিত্ব করেন এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারদের কল্যাণ এবং তাদের দেখভালের জন্য আলাদা একটি ডিপার্টমেন্ট গঠন করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, ইনশাআল্লাহ, দেশের মানুষের সমর্থনে বিএনপি আগামী দিনে সরকার গঠনে সক্ষম হবে। শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের যন্ত্রণার কিছুটা হলেও সমাধান করার চেষ্টা করবে দলটি।

তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি আগে যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তখন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় নামে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছিল। এই মন্ত্রণালয় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও আহতদের পরিবারদের কল্যাণ এবং দেখভাল করতো। তিনি জানান, আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠিত হলে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের দেখভাল এবং কল্যাণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা আন্দোলনে হতাহত পরিবারের স্বজন এবং আহতদের অবর্ণনীয় কষ্ট আমরা আজকের সভায় শুনেছি। এই কষ্ট কোনো উপায়ে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। কারণ তিনি নিজেও জানেন স্বজন হারানোর বেদনার মাত্রা কতটুকু। তবে দুইভাবে আমরা তাদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে পারি—এক, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা; দুই, যারা সাহসী হয়ে রাজপথে নেমেছেন, তাদের রাজনৈতিক অধিকার ও যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদী বিরোধী আন্দোলনে শহীদ এবং আহতদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সেই দায়িত্ব অনুভব করে। জনগণের রায় বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ দিলে পর্যায়ক্রমে এই দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, যারা হতাহত হয়েছেন—তাদের লক্ষ্য ছিল একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে শোক সমাবেশ ও শোকগাথা চলতে থাকবে। তাই শোক সমাবেশ নয়, বরং গণতান্ত্রিক মানুষরা আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনা করবে।

তিনি আরও সতর্কবার্তা দেন, যারা স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে শুধু দলীয় স্বার্থ রক্ষার মাধ্যমে পরিচালনা করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।

এভাবে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), যেখানে অংশগ্রহণ ও সভাপতিত্ব দলের শীর্ষ নেতারা করেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement