জামায়াত আমিরকে ঘিরে গেম অব থ্রোন্স স্টাইল ব্যানার
Published : ১৮:৫৩, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জনপ্রিয় টেলিভিশন ফ্যান্টাসি সিরিজ গেম অব থ্রোন্স–এর আদলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ছবি সংবলিত ব্যানার চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানানো হয়েছে।
বড়পোল ও চকবাজার এলাকায় এসব ব্যানার চোখে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয় এবং বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবিগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা নানা ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
তবে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা জানিয়েছেন, এসব ব্যানারের সঙ্গে তাদের কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই। তাদের দাবি, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির অংশ নয়।
এদিকে জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ডা. শফিকুর রহমান দেশব্যাপী নির্বাচনী সফরে রয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তিনি কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী কক্সবাজারের মহেশখালী ও সদর, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়া, সীতাকুণ্ড এবং চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ—এই পাঁচটি স্থানে আয়োজিত জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।
এই সফরকে কেন্দ্র করেই গেম অব থ্রোন্স–এর বহুল পরিচিত সংলাপ ‘উইন্টার ইজ কামিং’ ব্যবহার করে একটি ব্যানার টানানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যানারটিতে ডা. শফিকুর রহমানকে সামনের দিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, হাতে রয়েছে তলোয়ারের আদলে তৈরি দাঁড়িপাল্লা। ব্যানারের ওপরের অংশে বড় অক্ষরে লেখা ‘উইন্টার ইজ কামিং’ এবং নিচে ছোট করে উল্লেখ আছে—‘দাদু ফ্যান ক্লাব চট্টগ্রাম’।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘উইন্টার ইজ কামিং’ হলো গেম অব থ্রোন্স সিরিজের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও তাৎপর্যপূর্ণ সংলাপগুলোর একটি। এটি কাল্পনিক হাউস স্টার্ক পরিবারের মূলমন্ত্র।
সরল অর্থে এটি ঋতু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও, এর অন্তর্নিহিত অর্থ অনেক গভীর। এই বাক্যের মাধ্যমে আসন্ন কোনো বড় সংকট, বিপদ বা কঠিন সময়ের জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়। স্টার্ক পরিবারের সদস্যরা এই সংলাপ ব্যবহার করে নিজেদের মনে করিয়ে দিত যে, সুখ ও স্বস্তির সময় চিরস্থায়ী নয়—যে কোনো মুহূর্তে কঠিন পরিস্থিতি আসতে পারে, তাই আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা জরুরি।
সিরিজের কাহিনিতে এই সংলাপের একটি অতিপ্রাকৃত ব্যাখ্যাও রয়েছে। এটি মূলত উত্তর দিক থেকে ধেয়ে আসা রহস্যময় ও ভয়ংকর শত্রু ‘হোয়াইট ওয়াকার’দের আগমনের সতর্কসংকেত।
যারা পুরো মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংলাপটি পপ-কালচারের সীমানা পেরিয়ে বাস্তব জীবনেও একটি শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংকট কিংবা সামাজিক অস্থিরতার পূর্বাভাস বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। অনেকের কাছে এটি একটি দর্শন—যা মানুষকে প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে শেখায়।
এই প্রেক্ষাপটে কেউ কেউ ধারণা করছেন, জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো সমর্থক গোষ্ঠী নিজেদের ‘হাউস স্টার্ক’-এর সঙ্গে তুলনা করে এই প্রতীকী বার্তা ব্যবহার করেছে। তাদের মতে, এখানে ‘উইন্টার’ বলতে একটি আসন্ন কঠিন সময়ের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে এবং ‘হোয়াইট ওয়াকার’ দিয়ে প্রতিপক্ষ বা শত্রুপক্ষকে রূপক অর্থে বোঝানো হতে পারে। যদিও এটি সম্পূর্ণই ব্যাখ্যাভিত্তিক আলোচনা, এর কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জাহিদুল আলম জয় গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ফ্যান পেজে এসব ছবি আগে থেকেই ছড়িয়ে ছিল। সেখান থেকে কেউ সেগুলো প্রিন্ট করে ব্যানার আকারে লাগিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এর সঙ্গে সংগঠনের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তার ভাষায়, আমিরে জামায়াতকে ঘিরে কিছু সমর্থকের ফ্যানবেইজ তৈরি হয়েছে, তারা হয়তো আগ্রহ বা আবেগ প্রকাশ করতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এই ছবির সঙ্গে কোনো গভীর রাজনৈতিক অর্থ খোঁজার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মনে করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘দাদু ফ্যান ক্লাব’ নামে অনুসন্ধান করলে একাধিক পেজ ও গ্রুপ পাওয়া যায়, যেখানে এ ধরনের নানা ছবি নিয়মিত পোস্ট করা হচ্ছে। সেসব ছবি ঘিরে নেটিজনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে—কেউ বিষয়টিকে সৃজনশীলতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সমালোচনাও করছেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, তিনি এ ধরনের ব্যানারের কথা আগে শোনেননি। সাংগঠনিকভাবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। এরপরও বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গেম অব থ্রোন্স একটি জনপ্রিয় আমেরিকান টেলিভিশন ফ্যান্টাসি সিরিজ, যা লেখক জর্জ আর. আর. মার্টিনের উপন্যাস সিরিজ অ্যা সং অব আইস অ্যান্ড ফায়ার অবলম্বনে নির্মিত। এইচবিও চ্যানেলে ২০১১ সালে সিরিজটির সম্প্রচার শুরু হয় এবং ২০১৯ সালে এটি শেষ হয়। সিরিজটিতে বহু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রয়েছে, যাদের ভূমিকা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়।
তবে জন স্নোকে সাধারণভাবে সবচেয়ে নায়কোচিত চরিত্র হিসেবে দেখা হয়। তিনি ন্যায়পরায়ণ, দায়িত্বশীল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে ডেনেরিস টারগারিয়েন শুরুতে নিপীড়িতদের মুক্তিদাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়ে দাসপ্রথা বিলুপ্তি ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হয়ে ওঠেন।
বিডি/এএন




























