এনসিপি ক্ষমতায় এলে সরকারি কর্মকর্তাদের অর্থের হিসাব পাবেন নাগরিকরা: আসিফ
Published : ১৮:৪৯, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) শুরু করা সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হলে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজারে বাণিজ্য সুবিধা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
রোববার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যেন বাংলাদেশের রপ্তানি—বিশেষ করে তৈরি পোশাক—ইইউ’র বাজারে অব্যাহত প্রবেশাধিকার পায়, সে জন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নত করা এবং ব্যবসায়িক সংস্কার কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয় দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়।
ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে, যার ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে বাংলাদেশের ৭,৩০০-এর বেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রযোজ্য হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ নিয়েও সরকার আলোচনা এগিয়ে নিতে চায়।
তিনি আরও বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে এবং এতে রপ্তানি পণ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হলে বাংলাদেশের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
ইউরোচ্যামের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হারাতে পারে। তাই এফটিএ নিয়ে এখনই আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই ধরনের চুক্তি ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়াবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং বাংলাদেশের রপ্তানি আরও জোরদার করবে।
নুরিয়া লোপেজ আরও উল্লেখ করেন, ভারত ইতোমধ্যে ইইউ-এর সঙ্গে এফটিএ করছে এবং ভিয়েতনামও আগে থেকেই সুবিধা পাচ্ছে। এতে তারা ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করেছে। তাই ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার জানান, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ বাণিজ্য সম্পর্কের ধরণ বদলাবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনার বিষয়ে ইইউ আগ্রহী। ২০২৬ সালে একটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের আয়োজনও পরিকল্পিত।
ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় সুযোগ পেতে পারে। দক্ষ শ্রমশক্তি ও তুলনামূলক কম খরচ দেশের শক্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি জানান, সরকার একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করা।
অধ্যাপক ইউনূস আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে আস্থা বৃদ্ধি করবে।
বৈঠকে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক এবং সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।
বিডি/এএন
































