শেষ সময়ে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে অবস্থান জানালেন নিরাপত্তা উপদেষ্ট

শেষ সময়ে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে অবস্থান জানালেন নিরাপত্তা উপদেষ্ট ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০১:১৮, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও সংশ্লিষ্ট চুক্তি সম্পাদনকে অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়মিত ও চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া এসব প্রতিরক্ষা উদ্যোগ যদি পরবর্তী সরকার অব্যাহত না রাখে, তাহলে সরকারের প্রতিশ্রুতি বা দায়বদ্ধতা কীভাবে বিবেচিত হবে। জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, পরবর্তী সরকার এই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে কি না বা এগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে কি না—এ ধরনের প্রশ্ন অনুমাননির্ভর, যার নির্দিষ্ট উত্তর এখন দেওয়া সম্ভব নয়।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছে—এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে ড. খলিল বলেন, পৃথিবীর সব দেশে উড়োজাহাজ সংস্থা বা রাষ্ট্রীয় বিমান প্রতিষ্ঠান নেই, ফলে সব দেশের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারিত ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন। তবে এসব অগ্রাধিকারের বাইরে গিয়ে প্রতিরক্ষা খাতে তুলনামূলকভাবে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় সরকারের সমালোচনাও হয়েছে।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিরক্ষা খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে—ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে জিটুজি চুক্তি, পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়, চীন থেকে জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান সংগ্রহ, ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান ক্রয়ের উদ্যোগ, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন কেনা, তুরস্ক থেকে টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক হক মাল্টিরোল হেলিকপ্টার ক্রয় এবং প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে যুদ্ধজাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement