ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক বিটরুট

ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক বিটরুট ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০৩:৩৫, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিশ্বজুড়ে সুপার ফুড হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বিটরুট। উজ্জ্বল রঙের এই সবজিটি শুধু দেখতে আকর্ষণীয় নয়, বরং পুষ্টিগুণের দিক থেকেও অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

এতে থাকা নানা ধরনের ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোসহ ত্বক, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিটরুটে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, জিংক, আয়োডিন, ভিটামিন এ, বি৬ ও সি, ম্যাঙ্গানিজ, ফোলেট, রিবোফ্লাবিন এবং পটাশিয়ামের মতো অসংখ্য প্রয়োজনীয় উপাদান। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই সবজি যুক্ত করলে শরীর নানাভাবে উপকৃত হয়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ
বিটরুট বিশ্বের শীর্ষ দশটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ সবজির মধ্যে অন্যতম। এটি শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যাল ও অক্সিডেশনজনিত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা
বিটরুটের উজ্জ্বল লাল রঙের জন্য দায়ী উদ্ভিদ রঞ্জক ‘বেটাসায়ানিন’ কেবল সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এটি মূত্রাশয় ক্যানসারসহ কিছু ক্যানসারের কোষ বৃদ্ধিকে বাধা দিতেও সহায়ক। পাশাপাশি এতে থাকা ফেরিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন উপাদান শরীরকে ক্যানসারের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখে।

প্রদাহ কমাতে কার্যকর
বিটরুটে থাকা বেটালাইনস নামক উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে হাঁটুর ব্যথা, জয়েন্টের ফোলাভাব ও অন্যান্য প্রদাহজনিত সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
এই সবজিতে প্রাকৃতিকভাবে থাকা নাইট্রেট রক্তনালিকে প্রসারিত করে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখে। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।

শক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়
শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের পর পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিটরুট শরীরকে দ্রুত চাঙা করতে সহায়তা করে। নাইট্রেট পেশি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে শক্তি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখে।

হজমশক্তি উন্নত করে
বিটরুটে থাকা ফাইবার ও বেটাওয়েন অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম বাড়ায়। এতে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমে।

অন্ত্রের সুরক্ষায় সহায়ক
গ্লুটামিন নামক গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিডের একটি ভালো উৎস হলো বিটরুট। এটি অন্ত্রের আস্তরণকে ক্ষত, সংক্রমণ ও প্রদাহ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্যায়ামের সঙ্গে বিটরুট খাওয়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোবে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। এর ফলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও মানসিক সতেজতা বজায় থাকে।

মেনোপজ পরবর্তী নারীদের জন্য উপকারী
মেনোপজের পর নারীদের রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই সময় নাইট্রেটসমৃদ্ধ বিটরুট খাদ্যতালিকায় রাখলে হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে
হাত-পা বা আঙুলে রক্ত চলাচল কম হলে ব্যথা কিংবা অসাড়তা দেখা দিতে পারে। বিটরুট বা এর রস রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে এ ধরনের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

চিকিৎসকদের মতে, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে বিটরুট অন্তর্ভুক্ত করলে শরীরের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা বাড়ে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় থাকে এবং মানসিক সতেজতাও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement