ছয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি সম্রাটের

ছয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি সম্রাটের ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:৫৮, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সাভার মডেল থানার একেবারে ঢিল ছোড়া দূরত্বে ই, সাভার প্রেসক্লাবের পাশঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে একটি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার। লোকচক্ষুর আড়ালে পড়ে থাকা এই ভবনটিই গত সাত মাসে পরিণত হয়েছিল একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নীরব সাক্ষীতে।

 এই সময়ে সেখানে মোট ছয়টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) ওই ভবন থেকে জোড়া লাশ উদ্ধারের পর পুরো ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ায়।

তদন্তে বেরিয়ে আসে আরও ভয়ংকর তথ্য—খুনি ছিলেন থানার আশপাশেই ঘোরাফেরা করা, সবার পরিচিত এক ছদ্মবেশী ভবঘুরে।

পুলিশ সূত্র জানায়, প্রায় সাত মাস আগে সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেটিই ছিল এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের সূচনা। এরপর গত বছরের ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবন থেকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

একই স্থান থেকে গত ১৯ ডিসেম্বর আরও একটি মরদেহ উদ্ধার হয়। সর্বশেষ রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে আগুনে পোড়া অবস্থায় পাশাপাশি পড়ে থাকা দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা পুরো ঘটনাকে নতুন মাত্রা দেয়।

রোববার দুপুরে কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনে পোড়া দুটি লাশ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পুলিশ। এ সময় আগের হত্যাকাণ্ডের সময় স্থাপন করা সিসিটিভি ফুটেজ এবং এক সাংবাদিকের ধারণ করা একটি ভিডিও খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি কাঁধে করে মরদেহ নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের কাছে যাকে সবাই ভবঘুরে হিসেবে চিনত, সেই ব্যক্তিকেই সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মশিউর রহমান খান সম্রাট নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করে।

এ ঘটনায় সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে রোববার রাতেই একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সম্রাটের নামসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পরদিন তাকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল আদালতে হাজির করে পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে সম্রাট। তিনি জানান, কোনো পাগল বা ভবঘুরেকে অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখলেই তিনি তাদের ‘থার্টি ফোর’ কিংবা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ করে দিতেন—যা তার ভাষায় হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, সম্রাট প্রথম হত্যাকাণ্ড ঘটান ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে। ওই রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর ২৯ আগস্ট পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে এক যুবককে হত্যা করে তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। একই বছরের ১১ অক্টোবর সেখানে আরও এক নারীকে হত্যা করা হয়। পরে ১৯ ডিসেম্বর আরও এক যুবক তার হাতে প্রাণ হারান। সর্বশেষ শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর তাদের মরদেহে আগুন দেওয়া হয়।

তদন্তে আরও জানা গেছে, মশিউর রহমান খান সম্রাট তার প্রকৃত নাম নয়। নিজের পরিচয় গোপন ও নিরাপদ রাখতে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। তার বাড়িও সাভার এলাকায় নয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

 

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement