হাজতখানার ভেতর বিয়ে অনুষ্ঠান করলেন কারাবন্দি দুই আ.লীগ নেতা!

হাজতখানার ভেতর বিয়ে অনুষ্ঠান করলেন কারাবন্দি দুই আ.লীগ নেতা! ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২২:৪৫, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা হাজতখানার ভেতরে পরিবারসহ দুই শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার ভুড়িভোজের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে। অভিযোগ অনুযায়ী, নারী হাজতখানার ভেতর দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় এই আয়োজন করা হয়।

সূত্র জানায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদ হত্যা ও বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে নোয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

জানা গেছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় দুই নেতার মধ্যে আলাপচারিতার সূত্র ধরে তাদের পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ ডিসেম্বর কোম্পানীগঞ্জের যুবলীগ নেতা আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থির সঙ্গে হাতিয়া আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবের পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

এরপর সোমবার (১৯ জানুয়ারি) মামলার হাজিরার জন্য দুই নেতাকে আদালতে আনা হলে পুলিশের উপস্থিতিতেই হাজতখানার ভেতরে পরিবারের সদস্যরা বেয়াইখানার আয়োজন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার সময় নারী আসামিদের জন্য নির্ধারিত ওই হাজতখানায় উপস্থিত ছিলেন আজম পাশা রুমেলের স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি, মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থি, অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবসহ আরও একজন যুবক।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা গণমাধ্যমকে জানান, ওই কক্ষটি মূলত নারী আসামিদের পোশাক পরিবর্তন, খাবার গ্রহণ, নামাজ আদায় এবং শিশুদের দুগ্ধপানের জন্য ব্যবহৃত হয়।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনার দিন হাজতখানার দায়িত্বে ছিলেন পুলিশের সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে এটিএসআই কবির আহম্মদ ভুইয়া, কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন (৬৩৬), মো. হাসান (৩৪০) ও সাইফুল ইসলাম (২২০)।

এ বিষয়ে এটিএসআই জাহেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ডিউটি বণ্টনের কারণে তিনি ওই সময় আদালতের ওপরের তলায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।

এদিকে আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. সারওয়ার আলম জানান, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেন আদালত চত্বরে এ ধরনের অনিয়ম না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement